ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ফুটপাত হকারমুক্ত করা নাগরিকদের দাবি।
তবে হকারদের বেকার করতে চায় না সরকার। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হকাররা ফুটপাতের পাশাপাশি অনেক সময় সড়কের একটি অংশও দখল করে নেন।
এতে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং নাগরিকদের স্বস্তি নষ্ট হয়। তাই সড়কের শৃঙ্খলা, ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নাগরিকদের চলাচলের অধিকার সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা হকারদের বেকার করতে চাই না। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা বিকল্প জায়গা বের করার জন্য ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হলিডে মার্কেট করার চেষ্টা করছি।
মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে কয়েকজনকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কাজ। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন এবং পুলিশ তাদের অভিযানে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযান এমন নয় যে কাউকে বেকার করার জন্য। নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করার জন্যই ফুটপাত হকারমুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সংযোগ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসমর্থিত তথ্য প্রচার এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইন এখনো সংশোধন করা হয়নি। তবে আইন সংশোধনের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, তথ্য না জেনে কোনো অসমর্থিত তথ্য প্রচার করে সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,যেসব তথ্য প্রচারের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা, অস্থিরতা সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে, তা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইন এখনো সংশোধন না হওয়ায় প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ভিত্তিতে এখনই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে যা বললেন
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না এবং এ বিষয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তার এখতিয়ারে নেই। এ বিষয়ে স্পিকার বলতে পারবেন।
তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু বলা সঠিক নয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আর আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) হলে বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একজন মাননীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু বলা সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যের পদসংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে, সেটি স্পিকারই বলতে পারবেন।


