
পরিকল্পিতভাবে নকশা স্থাপন করে রাজধানীর নিউমার্কেটে বসানো হয়েছে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র। এর মধ্যদিয়ে এ মার্কেটের অগ্নিঝুঁকি অনেকটাই কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ী সমিতির। যদিও নিউমার্কেটের তুলনায় আশপাশের মার্কেটগুলো অনেক বেশি ঘিঞ্জি। ফলে চরম অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে এসব মার্কেট এবং এর যেকোনো একটিতে আগুন লাগলে আশপাশের মার্কেটগুলোতে সহজেই তা ছড়িয়ে পড়বে।
নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন জানান, নিউমার্কেটে ৭৬টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি মুহূর্তে ব্যবহার নিশ্চিতে ম্যাপও করা হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী, মার্কেট পর্যবেক্ষকসহ অন্যদের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি মুহূর্তে সাড়া প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, মার্কেটগুলোতে অধিক দোকান বসানোর প্রবণতা আগুন লাগার একটি কারণ। যা বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে অন্য অনেক সেবা নিশ্চিতে পিছিয়ে থাকে, যেখান থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আমাদের মার্কেটগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে। এছাড়া সস্তায় যন্ত্রাংশ কেনার প্রবণতা রয়েছে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও থাকে না।
নিউমার্কেট ও এর আশপাশের এলাকা প্রশাসনিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন। মার্কেটগুলোর ঝুঁকি নিয়ে ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিজানুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, মার্কেটগুলোতে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। দোকানগুলোর সামনে আরও তিনটি দোকান বসানো হচ্ছে। তারা সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিচ্ছে। সাথে প্রতিটি দোকানের জন্য গুদাম রাখছে। সব মিলিয়ে একটা অপরিকল্পিত ব্যবস্থা।
সরেজমিনে নিউমার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নিউমার্কেটের পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ দিকের প্রধান চারটি ফটক, মসজিদ, জেনারেটর কক্ষ, সাবস্টেশন ও ভেতরের মার্কেটের অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। ফায়ার এক্সটিংগুইশার সহজেই যেন পাওয়া যায় সে জন্য ম্যাপ ফুটপাতের (দোকানের সামনের) দোকনিদের দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য নিউমার্কেট ঘুরে বেশকিছু অসঙ্গতিও দেখা যায়। এরমধ্যে প্রতিটি মূল দোকানের সামনে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে ২টি করে দোকান। কোথাও কোথাও তিনটি দোকানও রয়েছে। মূল মার্কেটের ভেতরে এবং প্রবেশ গেটের অংশ দখলে নিয়েছে খাবারের দোকান থেকে শুরু করে অস্থায়ী হকাররা। মার্কেটটির শহীদ মিনার ঘিরে চলছে রমরমা হকার বাণিজ্য। ময়লা ফেলা হচ্ছে শহীদ মিনারে।


