বিয়ের ৬ মাসের মাথায় স্বামিকে হারিয়ে বিধবা হলেন ডালিয়া। মঙ্গলবার নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীর সংঘর্ষের সময় নিহত নাহিদের স্ত্রী ডালিয়া। তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছয় মাস আগে তারা বিয়ে করেন। সুখেই কাটছিল তাদের দিন। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সব শেষ। মঙ্গলবার থেকে স্বামী নাহিদের ছবি দেখে দেখে কান্না করেই যাচ্ছেন স্ত্রী ডালিয়া। ডালিয়া শুধু বলেন, কর্মস্থলে গিয়েছিল আমার স্বামী তাহলে কেন তাকে মেরে ফেলা হলো?
নাহিদের বাবা মো. নাদিম বলেন, ‘আমার ছেলে কাজের জন্য গেছে, ওতো কারো পক্ষে মারামারি করতে যায় নাই। ওরে কেন মারলো? এখন আমি কার নামে মামলা করুম, কার কাছে বিচার চামু। এই দুঃখ কষ্ট কারে বলুম আমি, কী বলবো, আর কিছু বলার নাই। ’
বুধবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আবেগাপ্লুত হয়ে নাহিদের বাবা নাদিম আরো বলেন, গরীব মানুষ আমরা, ক্লাশ ফাইব পর্যন্ত পড়ছে নাহিদ। ৮-৯ বছর আগে কিছুদিন নিউমার্কেটের নিউ সুপার মার্কেটে কাজ করেছে। এরপর থেকে সে বিভিন্ন দোকানে কাজ করে আসছিল। সবশেষ অ্যালিফেন্ট রোডে কাজ করত সে।
মঙ্গলবার ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচর দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যান নাহিদ। পরে নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হন। শুভ নামে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করান। তাৎক্ষণিকভাবে শুভ জানিয়েছিলেন নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সময় নাহিদ আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন।
পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিদ মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইসিইউর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তৌফিক এলাহী। নিহত নাহিদরা ৩ ভাই। সবার বড় তিনি। স্থানীয় বাড়ি কামরাঙ্গীরচর দেওয়ানবাড়ি এলাকায়।
সোমবার দিনগত রাতে নিউমার্কেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ শুরু হয়, চলতে থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। পরের দিন মঙ্গলবার দিনভর থেমে থেমে ব্যবসায়ী-ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হয়ে শুধু ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে থেকে দুই-একজন ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় মোরসালিন নাম এক যুবক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পি এস/ এন আই



