নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অন-অ্যারাইভাল ভিসায় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
একমাসের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসায় শর্ত জুড়ে দেওয়া নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে, পররাষ্ট্রকে এরকম একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে। আসলে আপনারা জানেন যে নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। যারা কাম্য না তারা অনেকেই এসে হাজির হয়ে যেতে পারেন। আমরা সব তো ভিসা বন্ধ করছি না। ভিসা নিয়ে আসুক, যদি আসতে চান। যাদের উদ্দেশ্য ঠিক থাকবে, তাদের আমরা আসতে দেবো। কিন্তু হুট করে কেউ যেন হাজির হয়ে না যান।
মার্কিন ‘থিংক টুয়াইস’ আইনের মধ্যে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষায় সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিমান বাহিনীর কথাই ধরুন, আমাদের বিমানগুলোর সবই অত্যন্ত পুরোনো। অনেকগুলো ঠিক করে চালানোর অবস্থায়ও নেই। কাজেই আমাদের অন্তত কিছু ক্রয় করতে হবে। এগুলো কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা কী আনা হবে, এগুলো নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। আমরা অবশ্যই এমন কিছু করবো না, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে অবনতি হতে পারে। আমরা একটা ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করব।
ফিলিস্তিনের গাজায় সৈন্য পাঠানো নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, গাজায় যে আমরা সৈন্য পাঠাবো, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। নীতিগত সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে, এটা নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। এখনো কোনো কিছু ঠিক হয়নি যে কারা থাকবে, কারা থাকবে না। তবে মূল কথা হলো- যে তিনটি শর্তের কথা বলে হয়েছে, যে কোনো অবস্থাতেই কিন্তু আমরা এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে যাবো না। এক– বাংলাদেশ ওখানে লড়াই করতে যাবে না। দুই– ওখানে এমন কোনও কর্তৃপক্ষ থাকবে, যাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ করা বা কথাবার্তা বলা সম্ভব না। সেক্ষেত্রে আমরা যাবো না। আমাদের শর্তগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। এরপর আমরা চিন্তা ভাবনা করবো।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষদিকে চলে এসেছে। সরকার কিন্তু থাকছে। তার মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবে, আরো কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন। দেশের যোগাযোগ ও স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করবো না বা করছি না, যেটা এই সরকার সরে গেলে একেবারে পরবর্তী সরকার এসে সব উল্টেপাল্টে দিতে হবে। সরকার যে পরিবর্তন হবে, সেটি খুবই মসৃণ পরিবর্তন হবে। আমরা যে কাজগুলো করছি, সেটা আমরা গুছিয়ে রাখছি, যতটুকু সম্ভব।
আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আরাকান আর্মিকে মিয়ানমার সরকার বৈধ বলে স্বীকার করে না। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। বৈধ না এমন কারও সঙ্গে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যোগাযোগ করতে পারি না, করবো না। আর মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক ত্যাগ করেনি।
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সমস্যা যেটা একদিনে শুরু হয়নি, একদিনে শেষ হয়ে যাবে না। বেসরকারি মানুষ হিসেবে শুরুতে বলেছিলাম, (রোহিঙ্গা) সমস্যাটা যেভাবে চিন্তা করা হচ্ছে যে, দুই চার মাস বা এক দুই বছরের মধ্যে সমাধান করে ফেলা হবে, তখন বলেছিলাম যে এটা হবে না। এটা যে ধরনের সমস্যা, তাতে করে দীর্ঘ সময় লাগবে। এটা অনেক সময় লাগবে এবং অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এবং আমাদের আরো দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে। যাতে সমস্যার সমাধান করতে পারি সে চেষ্টা চলছে।
গোলাগুলির ঘটনার পর মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ হয়েছে কিনা উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে ওদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ ব্যাপারে আপত্তি করা। মাঠে যারা আছেন তারা আসলে কি করছেন, ঘণ্টা বা একদিনের তথ্য আমার কাছে নেই। বিষয়টি দেখভাল করেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
বাহরাইনে জামায়াতের নেতার কাছে থাকা বেশকিছু পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টিতে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। দেখা যাক আসলে ফলাফল কী দাঁড়ায়। প্রথমবারের মতো আমরা পোস্টাল ব্যালটের চেষ্টা করছি। সে তুলনায় পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যাটা একেবারে কম না। আমাদের যারা রাজনীতির ক্ষেত্রে বিচরণ করেন, তারা সবাই পারফেক্ট মানুষ না। কেউ এটাকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে, এটাতে অবাক হওয়ার কিছু কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন অপব্যবহার না হয়। পোস্টল ব্যালট মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। তারপর সেখান থেকে তারা ভোট দিয়ে পোস্ট করে পাঠিয়ে দেবেন। দূতাবাসের ভূমিকা যে খুব বেশি তা কিন্তু নয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একটা নীতিগত অবস্থান, আমরা দুই পক্ষ মিলে ঠিক করছি। এটা কালকে সই হয়ে যাবে তা কিন্তু না। আরও দুটি ধাপ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় বেশ সময় লাগবে। দুপক্ষের নিজ নিজ ক্যাবিনেটে অনুমোদন হওয়ার পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সই করবে। আমি আশা করি যে, আমার উত্তরাধিকারী যিনি হবেন, তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে করতে পারবেন।
সৌদি আরবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছি। উন্নত করার চেষ্টা করছি বলতে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে গত এক বছরে।



