ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ে যৌথ বাহিনীর মহড়া, ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটির ধারাবাহিক বৈঠক—সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এবারের প্রস্তুতি আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় ভিন্নধর্মী, যার প্রধান লক্ষ্য ভোটারদের জন্য একটি নিরাপদ ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এই প্রস্তুতির কার্যকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগে মোট ৩৬টি সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন। পুরো বিভাগে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫ হাজার ১৩৩টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৯৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ৮৪২টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১ হাজার ৮৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।
খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৪০টি। প্রশাসনের মূল্যায়নে খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনার জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খন্দকার জানান, জেলার ছয়টি আসনে প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার একশ’ সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ২ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য। এছাড়া র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন ও সশস্ত্র আনসার সদস্যরাও নির্বাচনী নিরাপত্তায় যুক্ত থাকবেন।
তিনি আরও জানান, এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তায় একজন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যা জেলা পর্যায় থেকেই মনিটরিং করা সম্ভব হবে।
খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ভোটার, প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের সুবিধার্থে নির্বাচনকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এবং তাদের মোবাইল নম্বরও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সমস্যা জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।


