নীলফামারী সদরে যোগাযোগব্যবস্থা সুগম করতে সোয়া চার কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ কারণে আগের পুরনো সেতু ভেঙে নতুন কাজের উদ্বোধন করা হয়। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেই কাজ আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এখন নতুন সেতু দূরে থাক, পুরনো ভাঙা সেতুও হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতবছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি এ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ২০২১-২২ অর্থবছরের অর্থায়নে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৮ টাকা ব্যয়ে ছয়টি সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ২১ আগস্ট। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একটি সেতুর পাইল বসানো ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো কাজই করেনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের চৈতার কুড়া, দেওয়ার কুড়া, কুন্দপুকুর ইউনিয়নে পাটকামড়ী, ইটাখোলা ইউনিয়নে বামনডাঙ্গা নদীর ওপর, গোড়গ্রাম ইউনিয়নে বিশ ডারার ও ডাঙ্গা সোনারায় ইউনিয়নে ব্যাঙপাড়ায় এসব সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। এজন্য কাজ উদ্বোধনের আগেই সেতুগুলো ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এখন নতুন বা পুরনো কোনো সেতুই না থাকায় বিপাকে পড়েছেন
এলাকাবাসী জানান, চলাচলের পথ না থাকায় বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। কিছু জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে এপার-ওপার হতে গিয়ে প্রায় ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সোনারায় ইউনিয়নের ব্যাঙপাড়ার বাসিন্দা আফতাব হোসেন বলেন, শুধু ব্রিজ নির্মাণের উদ্বোধনের কথা জেনেছিলাম। দ্রুত কাজ শুরুর অজুহাতে পুরনো ব্রিজ ভেঙে মালামাল নিয়ে যান কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। জনসাধারণের চলাচলের জন্য সাঁকো দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক দূর ঘুরে মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
কুন্দপুকুর ইউনিয়নের পাট কামড়ী এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকার প্রাই সবাই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। মাঠ থেকে ফসল তুলে সবাই শহরে বাজারে বিক্রি করেন। অনেক সময় ব্যবসায়ী এসে ক্ষেতের ফসল নিয়ে যান। তবে বর্তমানে ব্রিজ না থাকায় অনেক রাস্তা ঘুরে শহরে যেতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও আসছেন না। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এলাকার কৃষক।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, মালপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজ করতে ঠিকাদারদের সময় লাগছে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে তারা আরও দ্রুত কাজ শেষ করতে পারবে।
জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, দ্রুত কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শেষ হবে।



