টানা তিনদিনের ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সাড়া পড়েনি সুন্দরবনে। ছুটির প্রথমদিন বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) যে পরিমাণ পর্যটক এসেছে দ্বিতীয়দিন শুক্রবার (১৮ মার্চ) তার চেয়েও কম এসেছে। বনবিভাগের ধারণা ছিল, প্রথমদিনের তুলনায় অন্তত তিনগুণ পর্যটক বাড়বে দ্বিতীয়দিনে। বনবিভাগের পর্যটক বাড়ার সে আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ছিল ছুটির দিন। শুক্রবার ও শনিবারও ছুটি। এ ছুটির প্রথমদিন করমজলে প্রায় এক হাজার পর্যটক আসেন। কিন্তু এমনিতেই সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকে। তবে এই শুক্রবার তার ব্যতিক্রম হয়েছে। ধারণা ছিল বৃহস্পতিবারের হিসাবে শুক্রবার তিনগুণ পর্যটক আসবে করমজলে। কিন্তু শুক্রবার হয়েছে তার চেয়ে কম, ৮০০ থেকে ৯০০ লোক এসেছেন। তার ধারণা, শুক্রবার দিনগত রাতে শবে বরাতের নামাজ আছে। তাই হয়তো লোকজন কম হয়েছে।
তবে শবে বরাতের কারণে শুক্রবার লোক কম হলেও শনিবার বেশি লোকের আগমন হতে পারে বলে ধারণা করছে বনবিভাগ।
পর্যটন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও মো. এমদদুল বলেন, ‘শুক্রবার শবে বরাতের নামাজ থাকায় অনেক পর্যটক আসেননি। তারপরও আমরা আশা করছি শনিবার অধিক সংখ্যক পর্যটক আসবেন।’
সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করমজল। সারা বছর ধরেই এই কেন্দ্রটিতে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী থাকে। এছাড়া হিরণপয়েন্ট, নীলকমল, আন্ধারমানিক, কটকা, কচিখালী ও দুবলায় মৌসুম ছাড়াও বছরজুড়ে কমবেশি পর্যটকদের আনাগোনা থাকে।
বনকর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, ‘তিনদিনের ছুটির প্রথমদিনে এক হাজার লোক হয়েছিল। ভেবেছিলাম শুক্রবার দ্বিতীয়দিনে তিনগুণ লোক হবে, কিন্তু তা হয়নি। এখন দেখি শনিবার কী হয়?’
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ এক লীলাভূমি সুন্দরবন। শুধু দেশে নয়, বিশ্বের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম এ ম্যানগ্রোভ বন। শীত মৌসুম এলেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর সুন্দরবনে ছুটে যান লাখো পর্যটক। সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে একসঙ্গে চারটি বাঘ সৌভাগ্য অর্জন করেছেন ৩০ জন পর্যটক।
পিএসএন/এমঅাই


