
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। সেনা দফতর, বিমান ঘাঁটিসহ বিভিন্ন সরকারি ভবনেও হামলা হয়েছে। এমন সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে ইমরান খানের দল পিটিআই এর সমর্থকরা বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের লাহোরের বাসভবনে হামলা চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির ৫০০ জনেরও বেশি দুর্বৃত্ত বুধবার ভোররাতে প্রধানমন্ত্রীর মডেল টাউন লাহোরের বাসভবনে পৌঁছায় এবং সেখানে পার্ক করা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পাঞ্জাব পুলিশের একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার বুধবার প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, তারা প্রিমিয়ারের (প্রধানমন্ত্রীর) বাড়ির ভিতরেও পেট্রোল বোমা ছুঁড়েছে।’
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা হামলার সময় প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে শুধু রক্ষীরা উপস্থিত ছিল। সেখানে একটি পুলিশ পোস্টেও আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। পুলিশের একটি ভারী দল সেখানে পৌঁছলে পিটিআই বিক্ষোভকারীরা চলে যায়।’
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছানোর আগে জনতা মডেল টাউনে ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন সেক্রেটারিয়েটে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। সেখানে পার্ক করা গাড়িতে আগুন দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে যে বিক্ষোভকারীরা পাঞ্জাবে গত দুই দিন (মঙ্গলবার এবং বুধবার) ১৪টি সরকারি স্থাপনা/ভবন এবং ২১টি পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউসে ভাঙচুর করার পরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার ভূমি হস্তান্তর দুর্নীতির মামলায় জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো (এনএবি) পিটিআই প্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পাকিস্তান। বুধবারও লাহোর এবং পাঞ্জাবের অন্যান্য কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।
ইমরান খানের সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষে পাকিস্তান জুড়ে কমপক্ষে আটজন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছে। বুধবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের পাশাপাশি পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে আইন ও রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।


