জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটোওয়ারী ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচনি তদন্ত ও বিচারিক কমিটিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী নির্বাচনি তদন্ত কমিটিকে এমন নির্দেশনা দেন। এ নির্দেশনায় রমনা থানার ওসি ও কলেজ অধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্য যুক্ত করে দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন গত ২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা-৮ আসনের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটোওয়ারী এর ওপর ডিম নিক্ষেপসহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সংবাদ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। নির্বাচনপূর্ব সময়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করায় নির্বাচনি পরিবেশ ও আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ লঙ্ঘিত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।
গত ২৭ জানুয়ারি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবকে ঘিরে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়। এনসিপি প্রার্থী কলেজে গেলে তাকে ডিম নিক্ষেপ করে হেনস্তা করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে রমনা থানার কাছে প্রতিবেদন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চান রিটার্নিং অফিসার।বৃহস্পতিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শুক্রবার রমনা থানার ওসি লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছেন; এরপরই বিশৃ্খল পরিস্থিতির বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে বলা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেখানে, ওসি ও অধ্যক্ষ কী বলছে
রমনা থানার ওসি জানিয়েছে, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২৭ জানুয়ারি শীতকালীন পিঠা উৎসব হচ্ছে, রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে কর্তৃপক্ষ বা কোনো রাজনৈতিক পক্ষই অবগত করেননি।
পুলিশ বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছে, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহম্মেদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যোগ দেবেন উৎসবে। বিএনপি এবং এনসিপি দুই প্রার্থীর এক স্থানে কর্মসূচি জেনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের অবহিত করেন ওসি।
রমনা থানার ওসি প্রতিবেদনে বলেছেন, রমনা থানার ফোর্স ও অফিসার মোতায়েন করা হয় এবং উভয়পক্ষকে হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শীতকালীন পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করি।
পুলিশ জানায়, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রমনা থানার ফোর্স ও অফিসার উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় ক্যাম্পাসে আনুমানিক ২৫০০/৩০০০ জন শিক্ষার্থী এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষ্যে তার সমর্থনে ১১ দলীয় জোটের ছাত্র শিবিরসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির কর্মী-সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত আছেন। অপরপক্ষে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহম্মেদ এর আগমন উপলক্ষ্যে তার সমর্থনে ছাত্রদলসহ বিএনপির কর্মী-সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত আছেন।
ওসি লিখিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পিঠা উৎসবে যোগ দিলে অনুষ্ঠানে তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি।…বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য প্রদানকালে উশৃঙ্খল জনতার মধ্য থেকে তার অভিমুখে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিবারণ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
রিটার্নিং অফিসারকে ওসি জানান, সার্বক্ষণিক পুলিশের উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের কারণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসারকে জানান, এ পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশেষ করে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ করেনি। এ উৎসবে কোনো প্রচার-প্রচারণার বিষয়ও ছিল না।


