সমাবেশের একদিন আগে থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতি। প্রশাসনিক হয়রানি ও মহাসড়কে নছিমন-করিমন বন্ধের দাবিতে এই কর্মসূচি দিলেও বিএনপি বলছে, সমাবেশে লোক সমাগম ঠেকাতে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাই পাল্টা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে রংপুরে বড় জমায়েত করার কথা বলছেন দলটির নেতারা।
জানা গেছে, শনিবারের (২৯ অক্টোবর) সমাবেশকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে রংপুরে নতুন মুখের আনাগোনা বাড়ছে। আশপাশের একাধিক জেলার নেতাকর্মীরা রংপুরে এসেছেন। এদের অনেকেই আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মী, কেউবা আবার পরিচিতজনদের বাসাবাড়িতে অবস্থান করছেন। শুক্রবারে (২৮ অক্টোবর) আরও বেশি নেতাকর্মী চলে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রংপুরে অবস্থানরত সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘এইটুকু বলতে পারি ১০ ডিসেম্বর নয়, ২৯ তারিখ রংপুরেই খেলা হবে। কোনো বাধায় নেতাকর্মীদের আটকে রাখা যাবে না।’
রংপুর থেকে বিভাগের যেসব জেলা খুব কাছাকাছি দূরত্বের সেখানকার নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসা নিয়ে টেনশন নেই নেতাদের। তবে দূরের যেসব জেলা সেখানকার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে নানা কৌশল হাতে নিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দফায় দফায় বৈঠক করছেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। কীভাবে বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে নির্বিঘ্নে সমাবেশে আসা যায়, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই এলাকার মানুষ বাসের চেয়ে বেশি চলাচল করেন অটোরিকশা, লেগুনা এই ধরনের বাহনে। রংপুর শহর থেকে কাছের জেলার লোকজন এসব বাহনে এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারেন।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই এলাকার মানুষ বাসের চেয়ে বেশি চলাচল করেন অটোরিকশা, লেগুনা এই ধরনের বাহনে। রংপুর শহর থেকে কাছের জেলার লোকজন এসব বাহনে এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারেন। বাস ছাড়া বাকি বাহনে ধর্মঘট না থাকায় খুব বেশি সমস্যা হবে না বলেও মনে করছেন নেতারা।
অন্যদিকে এখন পর্যন্ত শুধু রংপুর জেলার পরিবহন নেতারা ধর্মঘট ডাকলেও লালমনিরটহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরের পরিবহন নেতারা এখনো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। এসব জেলার পরিবহন নেতাদের অনেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। তাই বড় ধরনের চাপ না থাকলে নেতাকর্মীদের এসব জেলার বাসে করে আনা নেওয়া করার চিন্তাও আছে বিএনপির তরফে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নেতাকর্মীদের আনা-নেওয়ায় মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোরও চিন্তা আছে বিএনপির।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার বৈঠক করা হলেও দলটির নেতারা অভিযোগ করছেন- তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এরমধ্যেও প্রস্তুতি সেরে ফেলছেন নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) থেকেই মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন স্থানে তোরণ, ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টার লাগতে মন দিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে বড় শোডাউন দেখাতে লিফলেট, মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।
সমাবেশের জন্য জিলা স্কুলের মাঠ চেয়ে আবেদন করলেও প্রশাসন আবেদনের ১২ দিন পর কালেক্টরেট মাঠ বরাদ্দ দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে এই অনুমতি পায় বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এই সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
এদিকে, বিএনপি জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে বিভাগের আট জেলায় পোস্টারিং করলেও এখন নতুন মাঠের কথা উল্লেখ করে পোস্টার-ফেস্টুন করা হয়েছে।
কী বলছেন বিএনপি নেতারা
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর বিভাগীয় সমাবেশের দলনেতা হারুন অর রশীদ অভিযোগ করেছেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদের র্যাব তাদের ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো বাধায় সমাবেশে উপস্থিতি ঠেকানো যাবে না।’
দলীয় নেতাকর্মীদের র্যাব তাদের ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো বাধায় সমাবেশে উপস্থিতি ঠেকানো যাবে না।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন- চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনার চেয়েও রংপুরে বেশি জনসমাগম হবে। তাদের দাবি- শনিবার রংপুর হবে জনতার শহর।
সমাবেশের বিষয়ে কথা হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতেই মাঠ বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসন নানা নাটকীয়তা করেছে। এরপরও সমাবেশকে ঘিরে গোবিন্দগঞ্জ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত (৮ জেলা) বিএনপির যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।
দুলু বলেন, ২৮ তারিখ থেকে লোকজন রংপুরে আসা শুরু হবে, রাতে হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মী সমাবেশের মাঠেই অবস্থান নেবে।
এদিকে, সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তালিকা করে ফোনে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহমুদুন্নবী ডন।
বিষয়টিতে কথা হলে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘রংপুর নগরীসহ আশেপাশের এলাকার নেতাকর্মীদের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন রাতে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসছে। পরে হয়রানি করছে। তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তারপরও লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে।


