মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আলোচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ বছরের দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটবে, যা তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাকে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফিরাত নিউজ এজেন্সির বরাতে আলজাজিরা জানায়, রোববার পিকেকে তাদের সম্মেলনে এই বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়। ইরাকের উত্তরাঞ্চলে আয়োজিত সম্মেলনে গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা শিগগিরই জানানো হবে। একই সময়, কারাবন্দী কুর্দি নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের একটি বিবৃতিও পাঠ করা হয়, যেখানে তিনি পিকেকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
পিকেকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা কুর্দিদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে গেছি। কিন্তু এখন আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব শেষ হয়েছে। তাই আজ থেকে আমাদের সশস্ত্র লড়াইয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো।”
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দল একে পার্টির মুখপাত্র বলেছেন, “যদি পিকেকে তাদের ঘোষণার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তবে এটি তুরস্কের রাজনীতি ও ভবিষ্যতের জন্য এক বড় ধরনের পরিবর্তন হবে।”
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে কারাবন্দী কুর্দি নেতা ওজালান গোষ্ঠীটিকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণা তুরস্ক ও পিকেকের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
১৯৮৪ সালে কুর্দিদের জন্য পৃথক ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করা পিকেকের সশস্ত্র লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে গত কয়েক বছরে তুরস্কের সেনাবাহিনীর শক্তিশালী প্রতিরোধের মুখে পিকেকের হামলা অনেকটাই কমে এসেছিল।


