
প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার পার্লামেন্টে দেয়া তার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে তীব্র ভাষায় পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন। এই ভাষণে প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষণা করেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় অস্ত্র সীমিতকরণ চুক্তিতে অংশগ্রহণ স্থগিত রাখছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন পুতিনের বার্তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে ‘নিউ স্টার্ট’ নামের এই চুক্তিটিই একমাত্র পরমাণু অস্ত্র সীমিতকরণ চুক্তি, যা এখন বহাল আছে। ২০২১ সালে এটির মেয়াদ ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
এই সংঘাতের জন্যপশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করে পুতিন বলেন, ইউক্রেনকে তারা ‘রুশ-বিরোধী’ দেশে পরিণত করতে চাইছে। তিনি আরও বলেছেন, রাশিয়ার অস্তিত্ব সংকটের মুখে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন এই ভাষণ দিলেন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকীর ক’দিন আগে। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করে রাশিয়া।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ রাশিয়া বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তবে এবারের বসন্তকালে তারা একটা নতুন আক্রমণ শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুতিন ধাপে ধাপে ইউক্রেনে অভিযান চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। তিনি এটিকে ঐতিহাসিক রুশ ভূখণ্ডের মানুষকে রক্ষার মিশন বলে বর্ণনা করেন।
গত দু’বছরের মধ্যে এই প্রথম প্রেসিডেন্ট পুতিন কোন স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য তার এই ভাষণের সময় বার বার পেছানো হয়।
প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব ডনবাস অঞ্চলের সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, শান্তির ব্যাপারে পশ্চিমাদের যে অঙ্গীকার, তা আসলে এক ধরনের প্রতারণা। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কিয়েভ সরকার জীবাণু এবং পরমাণু অস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করছে।
পুতিন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এটি সমাধানের জন্য সবরকমের চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আমাদের পেছনে ভিন্ন খেলা চলছিল। পশ্চিমারা আসলে সময়ক্ষেপণ করছিল।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালায়, রাশিয়াও একই কাজ করবে।
তবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভাষণে ইউক্রেনের খেরসন থেকে যে রুশ সৈন্যদের হটিয়ে দেয়া হয়েছে, তার কোন উল্লেখ ছিল না। এটিকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বিব্রতকর পরাজয়গুলোর একটি বলে গণ্য করা হয়।
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের এক বছর পূর্তির আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষণ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন। এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পুতিন যেভাবে পশ্চিমা ও কিয়েভকে দায়ী করেছেন তা ‘অযৌক্তিক’।
একজন সিনিয়র ইউক্রেনিয়ান কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ভাষণে তিনি যে কতটা বিভ্রান্ত এবং কতটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন, সেটাই ফুটে উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পডোলিয়াক বলেন, রাশিয়া এখন যে অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে, সেটি থেকে উত্তরণ পাওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তিনি একেবারেই ভিন্ন এক বাস্তবতার মধ্যে আছেন, যেখানে ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কোন ধরণের আলোচনা শুরুর কোন সুযোগ নেই।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি


