উদীয়মান চীন ও মারমুখো উত্তর কোরিয়ার বিপরীতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের অনুরোধ জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলোকে বলেন যে, পূর্ব এশিয়া পরবর্তী ইউক্রেন হতে পারে। তবে এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জাপানকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুগাত্য ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।
গ্রুপ অফ সেভেন (জি-সেভেন) এর প্রধান হিসেবে জাপানের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কিশিদা জার্মানি ছাড়া বাকি সবগুলো দেশ সফর করেন। জার্মানিতেও শিগগিরই সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তার। ওয়াশিংটনে নিজের সফরের ইতি টেনে শনিবার কিশিদা বলেন যে, পূর্ব এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিবেশ সংক্রান্ত সংকটের বিষয়ে জোরালো অনুভূতি তিনি জি-সেভেন নেতাদের জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে কিশিদা বলেন, ইউক্রেন আগামী দিনের পূর্ব এশিয়া হয়ে উঠতে পারে। তিনি এসময়ে এই দুই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগগুলোকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে এককভাবে শক্তি প্রয়োগ করে ভারসাম্য পরিবর্তনের চেষ্টা এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে জাপানের আশেপাশের পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমানভাবে গুরুতর হয়ে উঠছে।
এর মাধ্যমে কিশিদা আশেপাশের সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান জোর খাটানোর বিষয়টির কথা উল্লেখ করেছেন। ওই সাগরের এলাকাগুলোতে চীনের জাপান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
চীন আগস্ট মাসে জাপানের সাগরের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করে। এটি তাইওয়ানের আশেপাশে চীনের সামরিক মহড়ার একটি অংশ ছিল।
তবে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ শনিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লজ্জাজনক আনুগত্যের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স


