ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া বাতিল-গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির পঞ্চম দিনও বুধবার আরও ৭৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। নামঞ্জুর হয়েছে আরও ১৭ জনের আপিল। যার মধ্যে দুটি ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে। ফলে মোট ১৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। আরও ১০টি আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে আপিল করে ২৭৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পেলেন। তবে ৮১ জনের মনোনয়নপত্র ইসি অবৈধ ঘোষণা করায় তারা প্রার্থিতা হারিয়েছেন। এ ছাড়া ২৩টি আপিল পরবর্তী সময় শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এদিনের শুনানিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আরও চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি। এ নিয়ে বাছাইয়ে বাদ পড়া দলটির ঢাকার সাতজনসহ সারাদেশের ১৭ প্রার্থীই প্রার্থিতা ফিরে পেলেন। ইসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত দলগুলোর তালিকায় নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আপগ্রেডেশন (সমসাময়িকীকরণ) না হওয়ায় দলটির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। পরে সিপিবির আবেদনে ইসি সব তথ্য আপগ্রেডেশন করায় গত কয়েক দিনের শুনানিতে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে পঞ্চম দিনের আপিল শুনানি হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৮১ থেকে ৩৮০ পর্যন্ত ক্রমিকের মোট ১০০টি আপিলের নিষ্পত্তি করে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার শুনানি করেছেন। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, পঞ্চম দিনে মোট ১০০টি আপিল শুনানি হয়। যার মধ্যে ৭৩টি আপিল মঞ্জুর ও ১৭ নামঞ্জুর করা হয়। আর ১০টি আপিল শুনানি অপেক্ষমাণ করা হয়েছে। যেগুলোর শুনানি পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার ৩১১ থেকে ৪১০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে।
গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইকালে মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পক্ষে তিনটি আসনে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করা হয়। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে।
তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।



