
ফের বিশাল পরিমাণ তেলের উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেক প্লাস। রোববারের ঘোষণায় সংস্থাটি বলেছে যে, দৈনিক দশ লাখ ১৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানো হবে। ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্তকে আশ্চর্যজনক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুধু সৌদি আরবই দিনে পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে। এছাড়া ইরাক কমাবে দুই লাখ ১১ হাজার ব্যারেলের তেল উৎপাদন। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আলজেরিয়াসহ ওপেকের সহযোগী সদস্যরাও উৎপাদন কমাবে।
রয়টার্স বলছে, ওপেক প্লাসের প্রতিশ্রুতির ফলে এখন থেকে দৈনিক ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করা হবে যা বিশ্বব্যাপী চাহিদার ৩ দশমিক ৭ শতাংশের সমান। চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত তেল উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলে নিয়ে আসা হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সোমবার (৩ এপ্রিল) ভার্চুয়ালি বৈঠক করে ২৩ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। এর আগের দিনই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
এদিকে ওপেক প্লাসের উৎপাদন কমানোর ঘোষণায় আন্তর্জাতিকত বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এরই মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার বেড়ে ৮৫ দশমিক ৫৪ ডলার হয়েছে। ইউএস ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২২ ডলার বেড়ে ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিনিয়োগ সংস্থা পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রধান বলেছেন, উৎপাদন ফের কমানোর ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার বাড়তে পারে।
গোল্ডম্যান শ্যাস জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৫ ডলার ও ২০২৪ সালে ১০০ ডলার হতে পারে।
অব্যাহত দাম কমার লাগাম টানতে রপ্তানিকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও তাদের সহযোগীদের দিনে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অক্টোবরে।
এমন এক সময়ে তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আশ্বাস থেকে বেড়িয়ে উৎপাদন কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন রাশিয়াও উৎপাদন কমিয়েছে বলে জানিয়েছে। রাশিয়া মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত তেল উৎপাদন কম করবে। চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারে দেশটি।
বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং সংকটের ফলে তেলের চাহিদায় প্রভাব পড়তে পারে, এই উদ্বেগের কারণে গত মাসে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারে নেমে এসেছে, যা ১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তকে অবাঞ্ছিত বলে আখ্যা দিয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার শুরুর পর সৌদি আরবকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সে সময় উল্টো তেল উৎপাদন আরও কমানোর ঘোষণা দেয় ওপেক প্লাস। বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি


