ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয়বারের মতো শপথ নিয়েছেন দেশটির বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা। রোববার শপথ গ্রহণের পর ব্রাজিলকে নতুন করে গড়ে তোলার ও পরিবেশ আর দরিদ্রদের জন্য লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
২০২২ সালের অক্টোবর মাসের নির্বাচনে জেইর বলসোনারোকে হারিয়ে ফের প্রেসিডেন্ট হন লুলা। লুলার শপথকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলের রাজধানী শহরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
লুলার শপথ গ্রহণ কেন্দ্র করে স্থানীয় সময় রোববার সকালেই স্থানীয় রাজপথগুলোতে নেমে আসে তার সমর্থকরা। সাম্বা নৃত্যে লুলাকে বরণ করে নেওয়া হয়।
এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন ৭৭ বছর বয়সি লুলা। কংগ্রেসের সামনে শপথ গ্রহণের পর তিনি বলেন, ব্রাজিলের পড়তির দিকে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কাজ করবে তাঁর সরকার।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিজ্ঞান খাতে অর্থায়নের যে ঘাটতি আছে তা পূরণে চেষ্টা করা হবে। রুখে দেওয়া হবে ব্যক্তিগত লাভের জন্য দেশের সম্পদ লুণ্ঠন।
রোববার লুলার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্রাজিলের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জাতিগত ও লিঙ্গসমতা আনা এবং আমাজন বন ধ্বংস শূন্যের কোঠায় আনা। তিনি বলেন, ব্রাজিলের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে নতুন করে গড়তে চান।
লুলার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ফার্স্ট লেডি রোসাঙ্গেলা জানজা ডি সিলভা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ডো আল্কমিন।
লুলার শপথ অনুষ্ঠানের বাইরে সমর্থকদের উল্লাস- রয়টার্স
এদিকে লুলার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠান এড়াতে গত শুক্রবারই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো।
লুলা ডি সিলভার। তিনি এমন এক সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন ব্রাজিল বাজেট সীমাবদ্ধতার মুখে দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে। এ ছাড়া তীব্র বিভক্তির দেশটিকে এক সুতোয় গাঁথতে নানা বাধার মুখে পড়তে হবে তাকে।
সম্প্রতি লুলার সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে যাওয়া জেরাল্ডো অ্যালকমিন বলেন, লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির নতুন প্রধান হিসেবে লুলার সামনে বিশাল এক চ্যালেঞ্জের পাহাড় অপেক্ষা করছে। সাড়ে ২১ কোটি জনসংখ্যার দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
ব্রাজিলের এই অবস্থার জন্য বলসোনারো সরকারকে দুষছে লুলার দল। তাদের অভিযোগ, কট্টর ডানপন্থী নেতা বলসোনারো দেশকে দুর্ভিক্ষের মতো বিপর্যস্ত অবস্থায় নিমজ্জিত করে ফেলেছেন। সামাজিক কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়ে ব্রাজিলের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।
তবে পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ লুলা ডি সিলভা এরই মধ্যে সরকার গঠনে অনেকটাই দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে মন্ত্রিসভা গঠন প্রায় সম্পন্ন করে এনেছেন। লুলার জন্য প্রথম বাধাটিই ছিল বামপন্থী সব নেতাকে এক টেবিলে বসানো। সেটি তিনি করে ফেলেছেন। শুরুতেই তার আরেকটি সফলতা হলো তিনি বামপন্থী থেকে মধ্য পন্থার বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে জোট করতে সক্ষম হয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি


