২২ লাখ কোটি টাকা ঋণের দায় নিয়ে নবযাত্রা
লুটপাট খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকখাত
উচ্চ মূল্যস্ফীতি
টানা ৬ মাস ধরে রফতানি আয়ের পতন
বিনিয়োগে বেহাল অবস্থা
আশার আলো দেখাচ্ছে রিজার্ভ রেমিট্যান্স প্রবাহ
পাহাড়সম বৈদেশিক ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিপর্যস্ত ব্যাংকিংকিং সেক্টরসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে যাত্রা শুরু করল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক শপথের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে নির্বাচিত এই সরকার। গঠন করা হয়েছে মন্ত্রী পরিষদ। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত সরকার হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশার পাল্লা অনেক ভারী। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিএনপি সরকারের সামনে অপার সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বিপুল শঙ্কাও।
২২ লাখ কোটি টাকা ঋণের দায় নিয়ে নবযাত্রা
প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকার সরকারি ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো নতুন সরকারের। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা তিন লাখ কোটি টাকা। গত দেড় বছরে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদের শপথ নেওয়ার পর বিশাল অঙ্কের ঋণের দায়ভার সরকারের ওপর চলে এসেছে। বিপুল অঙ্কের মধ্যে অভ্যন্তরীণ (ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও কর্মচারীদের ফান্ড) ঋণ প্রায় ১২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশে পুঞ্জীভূত ঋণের অঙ্ক ছিল ১৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর গত জানুয়ারি পর্যন্ত ঋণের অঙ্ক বেড়ে প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে। এ পর্যন্ত পুঞ্জীভূত মোট ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাতের ঋণের পাহাড় ৮ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। গত ছয় মাসে শুধু বিদেশি ঋণ নেওয়া হয় ১০৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, দেশীয় মুদ্রায় ১৩ হাজার ১০৩ কোটি টাকা।
লুটপাট খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকখাত
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকখাত ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে ব্যাংক খাত। তারল্য সংকটে অনেক ব্যাংক গ্রাহকের টাকা পর্যন্ত দিতে পারছিল না। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাংকখাতে বেশকিছু সংস্কার উদ্যোগ নেয় অধ্যাপক ইউনূসের সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সাল নাগাদ খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ ঋণ কীভাবে আদায় হবে, সেটা এখন একটা বড় প্রশ্ন। কারণ আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীদের যারা ঋণ নিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায় করা যাচ্ছে না।
লুটপাটের অভিযোগ ছিল যেসব ব্যাংকে, সেগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়। সেইসঙ্গে, দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন ব্যাংক গঠন করেছে সরকার। এর বাইরে, আইনসহ নানান সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগের ফলে গত দেড় বছরে ব্যাংকখাত কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছেছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। অধ্যাপক ইউনূসের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের আনার জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে, নতুন করে টাকা না ছাপানো এবং ব্যাংক ঋণে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৭ শতাংশ। সরকারের নানান প্রচেষ্টায় গত দেড় বছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেও এসেছে। গত জানুয়ারিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
টানা ৬ মাস ধরে রফতানি আয়ের পতন
রিজার্ভের প্রধান উৎস রফতানি আয় কমছেই। টানা ছয় মাস ধরে কমছে; গত বছরের আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পর নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেও কমেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। ট্রাম্প শুল্কের ধাক্কায় রফতানি বাণিজ্যে এই বেহাল দশা।
রফতানিকারকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অস্থিরতার কারণেই রফতানি আয় কমছে। আগামী মাসগুলোতেও এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে অর্থনীতিতে সংকট বাড়বে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রফতানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সপ্তম এবং নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে পণ্য রফতানি থেকে ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ (৪.৪১ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থবছরের সপ্তম মাস জানুয়ারির চেয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জানুয়ারিতে আয়ের অঙ্ক ছিল ৪৪৩ কোটি ৬০ লাখ (৪.৪৪ বিলিয়ন) ডলার।
সামগ্রিক হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পণ্য রফতানি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। এই সাত মাসে (গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি) ২ হাজার ৮৪১ কোটি ৫ লাখ ডলারের (২৮.৪১ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের এই সাত মাসে রফতানির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ (২৮.৯৭ বিলিয়ন) ডলার। রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক থেকে আয় কমার কারণেই রফতানি বাণিজ্যে এই বেহাল দশা হয়েছে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই তিন মাসকে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে পোশাক রফতানির ভরা মৌসুম (পিক আওয়ার) বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই তিন মাসে পোশাক রফতানি থেকে বেশি আয় হয়ে থাকে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্প শুল্কের ধাক্কায় ওলোটপালট বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিতে এই হাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও রফতানিকারকরা।
রফতানি আয়ে বড় উল্লম্ফন নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছর; এই আর্থিক বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রফতানি থেকে ৪৭৭ কোটি (৪.৭৭ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়, যা ছিল গত অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসেই হোঁচট খায়। ওই মাসে পণ্য রফতানি থেকে ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ (৩.৯১ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে কমেছিল ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে আয় হয় ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ (৩.৬২ বিলিয়ন) ডলার; কমেছিল ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। চতুর্থ মাস অক্টোবরে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয় ৩৮২ কোটি ৩৮ লাখ (৩.৮২ বিলিয়ন) ডলার। যা ছিল গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। পঞ্চম মাস নভেম্বরে ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ (৩.৮৯ বিলিয়ন) ডলার আয় করে বাংলাদেশ। যা ছিল গত অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম। ডিসেম্বরে কমেছিল সবচেয়ে বেশি, ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। ওই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৯৬ কোটি ৮৩ লাখ (৩.৯৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ডিসেম্বরে আয়ের অঙ্ক ছিল ৪৬২ কোটি ৭৫ লাখ (৪.৬৩ বিলিয়ন) ডলার।
বিনিয়োগে বেহাল অবস্থা
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করেছে অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। ব্যাংক ঋণকে নিরুৎসাহিত করতে বাড়ানো হয় সুদের হার। আর যখন ব্যাংক ঋণের সুদহার উচ্চ রাখা হয়, সেটার অর্থ দাঁড়ায় সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিনিয়োগ চাচ্ছেন না। সরকারের এমন নীতির কারণে গত দেড় বছরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগও আসেনি। এমনকি, বিনিয়োগ সম্মেলন করেও সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়াগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি, যার ফলে অর্থনীতিতে গতি আসেনি। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিই এর জন্য বড় অংশে দায়ী। অন্তবর্তী সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। আর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পাওয়ায় বেসরকারিখাতে সেভাবে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়নি। কমতে কমতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ আগের বছরের একই মাসের চেয়ে মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
পাচারের অর্থ ফেরত
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময় অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে কত টাকা পাচার করা হয়েছে এবং এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। তিন মাসের মাথায় ওই কমিটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে ২৮ উপায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করে দেশে ফেরাতে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকোভারি’ নামে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অধ্যাপক ইউনূসের সরকার। গত দেড় বছরে দেশে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করেছে সরকার। এছাড়া বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিসহ মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আশার আলো দেখাচ্ছে রিজার্ভ
হাজারো শঙ্কার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বিজার্ভ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় বেলায় ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রেখে গেছে। আর আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে নানান উপায়ে অর্থ পাচারকেও বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ হ্রাসের কারণ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের যখন পতন ঘটে, তখন বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। গত দেড় বছরে সেটি আবার ধাপে ধাপে বেড়ে এখন সন্তোষজনক অবস্থায় এসেছে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনায় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফনে রিজার্ভও বাড়ছে।
রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ
ইউনূস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রেকর্ড গড়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেও জোয়ার বয়ে গেছে এই সূচকে। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের পর এই মাসেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের বেশি দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশে এই প্রথম পর পর দুই মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসলো দেশে। এর আগেও এক মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি প্রথম নয় দিনে (১ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি) ১১৩ কোটি ৫০ লাখ (১.১৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে। এই অঙ্ক গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ের চেয়ে ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির এই নয় দিনে ৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার এসেছিল দেশে। আর পুরো মাসে এসেছিল ২৫২ কোটি ২৭ লাখ (২.৫২ বিলিয়ন) ডলার। সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাত মাস নয় দিনে ২ হাজার ৫৬ কোটি ৫০ লাখ (২০.৫৬ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৮১ কোটি ৮০ লাখ (১৬.৮২ বিলিয়ন) ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের সাত মাস নয় দিনে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি) গত অর্থবছরের একই সময়ের (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি) চেয়ে ২২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে। প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ ধরে রাখাও হবে বিএনপি সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জিং কাজ।


