নবনির্মিত সচেতনতা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এর উদ্বোধন করেন
জার্মান সরকারের পরিবেশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ, পারমাণবিক সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ মন্ত্রণালয় ও বউহাউস বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েমার-এর অর্থায়নে সাসটেইন্যাবল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং টু রিডিউস ইরিভার্সিবল পপুলেশন বাই প্লাস্টিক (এসসিপিআই) প্রজেক্ট-এর আওতায় এ সচেতনতা কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। সিটি মেয়র ফিতা কেটে সচেতনতা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোন মূল্যে এই দূষণ প্রক্রিয়া থেকে নগরীর পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে হবে। কেসিসি কর্তৃক ডুমুরিয়া উপজেলাধীন শলুয়া ড্যম্পিং পয়েন্ট, বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও রাজবাঁধ টেনসিল গ্রাউন্ডে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, ডিজেল ও সার উৎপাদনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে প্রায় চারশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে একদিকে বর্জ্য যেমন সম্পদে পরিণত হবে অন্যদিকে পরিবেশ দূষণও রোধ হবে।
উলেখ্য, সচেতনতা কেন্দ্রটি নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গৃহীত প্রকল্পের গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ, প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ, প্রচারণা ইত্যাদি পরিচালনা এবং সকলের সাথে যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রæপ থেকে তথ্য সংগ্রহ, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে প্রাসঙ্গিক তথ্যসমূহ যাচাই, ডিজাইন প্রস্তুত, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় করণীয় নির্ধারণ করে জনগণকে অবহিত করার কাজেও কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর একটি মাস্টারপ্লান প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে। গঠিত কমিটি শিগগিরই একটি বাস্তবায়নযোগ্য ও টেকসই মাস্টারপ্লান প্রণয়নে সক্ষম হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
সিটি মেয়র আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়নে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে অংশীদার করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই ও উন্নত করতে সক্ষম হবে। কেসিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকল্পের সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় সচেতনতা কেন্দ্রটি দেশের অন্য সকল সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকল্পের ডাইরেক্টর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ রাফিজুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীর, জার্মানীর পরিবেশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ, পারমাণবিক সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ মন্ত্রণালয় এবং বাউহাস ইউনিভার্সিটি ওয়েমার-এর প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার ঈখারড ক্রাফটকে, কেসিসি’র সচিব মোঃ আজমুল হক ও জার্মানীর ইনস্টিটিউট ফর সোস্যাল ইকোলজিক্যাল রিসার্চ-এর কর্মকর্তা ড. ইঞ্জিনিয়ার মার্টিন জিমারম্যান। কেসিসি’র মেয়র প্যানেলের সদস্য, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তাসহ প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কুয়েটের শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

