গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সকল একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। এতে শিক্ষাজীবন নিয়ে ভোগান্তি ও শঙ্কায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
আপগ্রেডেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের (ভিসি) আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
বুধবার (১ জুন) শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবু সালেহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষকদের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিউ মৃধা ঢাকা মেইলকে জানান, শিক্ষকদের এমন একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার বিষয়টি আমি ভালোভাবে দেখছি না। করোনার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা ভঙ্গুর। কিন্তু বিভিন্ন আন্দোলন বিভিন্ন সমস্যার কারণে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়ছেন বিপাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাসুকুর রহমান বলেন, ‘অস্পষ্ট, অপরিকল্পিত এক ভবিষ্যৎ পার করছি আমরা। শিক্ষক সমিতি তার মিটিং শেষে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা যেন এক অন্ধকূপে আটকে আছি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখে শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা উচিত। এই সংকটজনক অবস্থার নিরসন না হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়বে, বেকারত্ব বাড়বে, দেশ সংকটে পড়বে। তাই শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখুক, ক্লাস না— এটাই তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।’
শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবু সালেহ বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় যত দ্রুত এই বিষয়গুলো সমাধান করে দেবেন তত দ্রুত সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আশা করতেছি খুব দ্রুতই এর এটা সমাধান হয়ে যাবে।’
এছাড়া, এ অচলাবস্থার দীর্ঘসূত্রীতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী এর দীর্ঘসুত্রতা হবেনা খুব দ্রুত সবকিছু মিটে যাবে।’
শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ক্ষতি হবে কিনা জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা করোনার পরে যেভাবে ক্লাস নিয়ে সব পুষিয়ে দিয়েছিলাম, সেভাবে আমরা সব কিছু পুষিয়ে দিবো। তাদের প্রতি আমাদের দ্বায়িত্ব আছে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবেনা। শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
পি এস/এন আই


