
সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা পূরণে কাজ করছে ভারতের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি আদানি পাওয়ার লিমিটেড। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা ১৬০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে আদানি পাওয়ার লিমিটেড বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করবে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার বাংলা সংস্করণ এই সময়। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিট থেকে এরই মধ্যে বাংলাদেশে আমদানি শুরু হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় অবস্থিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রসারিত করার এবং প্রতিবেশী দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তির চেয়ে বেশি দক্ষ এবং পরিবেশ বান্ধব হিসাবে পরিচিত।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৪০০ কিলোভোল্ট (কেভি) ডাবল সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ট্রান্সমিশন লাইনটি ভারত বাংলাদেশ পাওয়ার ইন্টারকানেকশন প্রজেক্টের অংশ। ভারত বাংলাদেশ পাওয়ার ইন্টারকানেকশন প্রজেক্টের লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিনিময় সহজ করা।
খবরে বলা হয়েছে যে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুতের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি পরিষ্কার এবং আরও কার্যকরি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উভয় দেশের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতেও সাহায্য করবে।
খবরে বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন ভারতের শক্তি পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রচারের দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
ঝাড়খন্ডের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ ৯ মার্চ বাংলাদেশ গ্রিডের সঙ্গে সিন্ক্রোনাইজ করে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য পিজিসিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী মনাকষা থেকে রহনপুর হয়ে বগুড়া পর্যন্ত ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং বগুড়ায় ৪০০/২৩০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
ঝাড়খণ্ডে নির্মিত আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ প্রায় দেড় হাজার মোগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালের জুনে প্রথমবার বাংলাদেশ সফর করেন। তখন ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়। এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।


