
বাংলাদেশের অগ্রগতি কোনো মিরাকল (জাদু) নয়, এই অগ্রযাত্রাকে কষ্টার্জিত সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারপ্রধান বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের শক্ত ভিত্ত গড়ে তোলে। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে গত সাড়ে ১৪ বছরে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশের’ জন্য দেশকে প্রস্তুত করেছি।
মঙ্গলবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় দুপুরে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চাই। স্মার্ট বাংলাদেশে, একটি স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট জনগোষ্ঠী, স্মার্ট সমাজ এবং স্মার্ট মানবসম্পদ থাকবে। স্মার্ট বাংলাদেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা।
আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরা ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করছি। এছাড়াও সারাদেশে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার এবং হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অবদান রাখতে পারে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের শক্ত ভিত্ত গড়ে তোলে। ২০০১ সালের পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির আরেকটি অন্ধকার যুগ। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে গত সাড়ে ১৪ বছরে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশের’ জন্য দেশকে প্রস্তুত করেছি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক খাতের সব বিভাগে বাংলাদেশ অসাধারণ অগ্রগতি লাভ করেছে।
সরকারপ্রধান বলেন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়। আমাদের লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যয় আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ-আয়ের দেশ উন্নীত হওয়া। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত নানা কর্মসূচির ফলে দেশে দারিদ্র্যের সংখ্যা কমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি দেশ। সঙ্গে রয়েছে ৪৬০ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি। যেখানে ২০০৫-০৬ সালে দেশের জিডিপি ছিল মাত্র ৬০ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালে ৫৪৩ ডলার, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তা বেড়ে ২০২২ সালে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ একটি বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এটিকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। দেশে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, নিরক্ষরতা দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা খাদ্য নিরাপত্তা, বিনামূল্যে ও সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল পরিষেবা, প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জলবায়ু অভিযোজনে সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জন করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে আমরা এখন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ব্যাপারে বিশ্বের সেরা ১০টি দেশের মধ্যে আছি। বাংলাদেশই সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ উপনেতা সবাই নারী।’
এছাড়াও নিজ বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম, ২৩ বছরের সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হওয়া এবং পরবর্তী সামরিক শাসন এবং ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতায় আসার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।


