
মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। এদিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রিয় বস্তু কোরবানির মাধ্যমে মহান আলাহ পাকের সান্নিধ্য অর্জনের চেষ্টা করেন। এ কারণে ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই তোড়জোড় শুরু হয় কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের। শহর থেকে শুরু করে প্রতান্ত গ্রাম পর্যন্ত বসে গরু-ছাগলের হাট। ব্যতিক্রম নয় বাগেরহাটও। এ বছর বাগেরহাটে কোরবানি উপলক্ষে গরু-ছাগলের ২২টি হাট বসেছে। এর মধ্যে অন্যতম বড় হাট ফকিরহাটের বেতাগা পশুর হাট। সোমবার সকাল থেকেই হাজার গরুর সমারোহ-আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক ডাকে জমে উঠেছে হাটছি। গৃহস্থরা পছন্দমত গরু ক্রয় করে ফিরছেন বাড়িতে। ব্যবসায়ী ও খামারিরা অপেক্ষা করছেন আদরের ধন বিক্রির।
মোলাহাট থেকে গরু নিয়ে আসা ফারুক হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় হাটে এসেছি। হাটে লোকও যেমন অনেক আজকে গরু-ছাগলও এসেছে বেশি। ১২টি নিয়ে আসছিলাম, ৮টি বিক্রি করেছি। সন্ধ্যার মধ্যে বাকি চারটিও বিক্রি করতে পারবো মনে হয়। খুলনার ডুমুরিয়া থেকে গরু নিয়ে তারক বৈরাগী বলেন, অন্য ধর্মের হলেও, প্রায় ১৫ বছর ধরে কোরবানি উপলক্ষে গরু লালন পালন করি। এবার ৪টি গরু ছিল, ১টি বাড়ি থেকে বিক্রি করেছি। এই হাটে তিনটি বিক্রি করলাম। দাম ভালোই পেয়েছি, তবে খাবারের দাম অতিরিক্ত হওয়ায় এবার লাভ কিছুটা কম হয়েছে।
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা এলাকা থেকে ২০টি গরু নিয়ে এসেছিলেন ব্যবসায়ী সেলিম মোলা। দুপুর পর্যন্ত ১৫টি গরু বিক্রি করেছেন। অপেক্ষায় আছেন অবশিষ্ট বাকি ৫টি বিক্রি করে বাড়ি ফেরার।
গরু কিনতে যাওয়া কচুয়া উপজেলার ভান্ডারকোলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আফজাল শেখ বলেন, এবার কোরবানিতে গরুর দাম অনেক বেশি। এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় একটা ক্রয় করেছি। তবে এটার দাম এক লক্ষ টাকার মধ্যে থাকলে ভাল হতো। ফকিরহাট উপজেলার কাঁঠালতলা এলাকা থেকে গরু কিনতে আসা মৌলভী আমির হোসেন বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবার তাই অনেক হিসেব-নিকেশ করে গরু কিনতে হয়। দেখছি, দামে-দরে মিললে কিনবো। গরু ক্রয় করে বাড়ি ফেরা আব্দুর রশীদ মোলা বলেন, দীর্ঘক্ষণ ঘুরে একটি ষাঁড় কিনেছি। প্রায় ৫ মণ ওজনের গরুটি আমরা এক লক্ষ ১২ হাজার টাকায় কিনেছি। গরুটার রংও ভালো, সবার পছন্দ হয়েছে।
হাট ইজারাদার আনন্দ দাস বলেন, কোরবানির আর মাত্র দুই দিন আছে। তাই সবাই আজকের হাটেই গরু ক্রয়ের চেষ্টা করছেন। আজকে অনেক গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও কিছু গরু বিক্রি হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাধারণত সপ্তাহে শুক্র ও সোমবার আমাদের গরুর হাট বসে। কিন্তু কোরবানি উপলক্ষে যদি ব্যবসায়ীরা চায় আগের দিন রাত পর্যন্ত এখানে গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাগেরহাটে এবার কোরবানির জন্য ৮ হাজার খামারি এক লক্ষ ২ হাজার পশু লালন পালন করেছেন। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২২টি পশুর হাট বসেছে। স্থানীয় ব্যবস্থাপনায়ও কিছু হাট বসেছে বিভিন্ন এলাকায়। শুধু হাট নয়, এবার কোরনবানিতে অনলাইনেও পশুর বিক্রির ব্যবস্থা করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সেই সাথে খামারিরা নিজ বাড়িতে বসেও কোরবানির পশু বিক্রি করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেও অনেকে গরু-ছাগল বিক্রি করছেন।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, কোরবানি উপলক্ষে বসানো প্রতিটি হাটে আমাদের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম রয়েছে। এছাড়া কোন অসাধু ব্যবসায়ী যাতে হরমন বা অন্য কোন খারাপ রাসায়নিক দিয়ে গরু বিক্রি করতে না পারে সেজন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি রয়েছে বলে জানান তিনি।


