সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়লেও খাদ্য সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, আগের তুলনায় সুন্দরবনে বাঘের উপস্থিতি বেড়েছে, তবে পর্যাপ্ত শিকার না পাওয়ায় বাঘের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। মোট খাদ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে হরিণ থেকে, বাকি অংশ বন্য শূকর, বনবিড়াল ও বানর। কিন্তু অবৈধ শিকার বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিণের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। বিশেষ করে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় চোরাশিকারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বনে পাতা ফাঁদ ও চেতনানাশক ব্যবহার করে হরিণ শিকার বেড়ে যাওয়ায় বাঘ খাদ্যের অভাবে নদী ও খাল পেরিয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসছে। এতে মানুষের সঙ্গে বাঘের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাংস প্রয়োজন। খাদ্য না পেলে বাঘ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফাঁদে আটকে আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। কিছু আহত বাঘকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ শিকার বন্ধ এবং বাঘের খাদ্যচক্র সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


