খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শিশুকাল থেকেই অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। তিনি এদেশের মানুষকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসতেন। যে কারণে তিনি সারাজীবন অত্যাচার নির্যাতন জেল জুলুম সহ্য করেছেন। বাঙ্গালির অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন আপোষহীন। তাইতো তিনি ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাঙ্গালির শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন করেছেন। এসব আন্দোলন সফল হলেও নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দেয়া হয়নি। সে কারণেই বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক মুক্তির এবং অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এই দাবিকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। বাঙ্গালী বেরিয়ে আসে আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে আনেন। বঙ্গবন্ধু ’৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ করলেও ক্ষমতা দেয়া হয় না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ দাবি আদায়ের লক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তার ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। জাতি পায় একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। পরবর্তীতে ’৭৫ সালে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সহপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে পিতার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেন। পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে একটি স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়তে তিনি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগকে আবারও বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময়ে বক্তৃতা করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা। মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগের পরিচালনায় এসময়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা বেগ লিয়াকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল সিংহ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বন্দ, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, জামাল উদ্দিন বাচ্চু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস আলম চাঁন ফারাজী, এ্যাড. অলোকা নন্দা দাস, হালিমা রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাকসুদ আলম খাজা, বিরেন্দ্র নাথ ঘোষ, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, অধ্যা. রুনু ইকবাল, তসলিম আহমেদ আশা, কাউন্সিলর রেকসোনা কালাম লিলি, শেখ জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল হাই পলাশ, এ্যাড. শামীম মোশারফ, মুন্সি মো. সেলিম হোসেন, মো. জাকির হোসেন, মো. শিহাব উদ্দিন, মীর মো. লিটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোতালেব মিয়া, এ্যাড. একেএম শাহজাহান কচি, মো. সফিকুর রহমান পলাশ, এম এ নাসিম, অধ্যা. এ বি এম আদেল মুকুল, শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল, এ্যাড. শামীম আহমেদ পলাশ, শেখ নজিবুল ইসলাম নজিব, কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম, নূরিনা রহমান বিউটি, কাউন্সিলর রেকসোনা কালাম লিলি, কাউন্সিলর কনিকা সাহা, এ্যাড. রাবেয়া ওয়ালী করবী, মো. মোক্তার হোসেন, আকবর আলী মাতুব্বর, নাছরিন ইসলাম তন্দ্রা, আফরোজা জেসমিন বিথী, কবির পাঠান, রেখা খানম, ফেরদৌস আলম রিতা, শবনম মুস্তারী বকুল, সাবিহা ইসলাম আঙ্গুরা, এ্যাড. শাম্মী আকতার, জহির আব্বাস, ওমর কামাল, রাহুল শাহরিয়ারসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা এবং বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবার ও সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান। সকাল সাড়ে ৭টায় দলীয় কার্যালয় থেকে র্যালি করে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
