আসাদুজ্জামান মিলন, শরণখোলা থেকে
আর দশটা শিশুর মত যে বয়সে ওর বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ঠিক সেই বয়সেই বলেশ্বর পাড়ের শিশু মুসার হাতে দেখা যায় বিক্রির জন্য বাদামের কতগুলো প্যাকেট।
মাত্র ৭ বছর বয়সেই সংসারের ভার মাথায় তুলে নিতে হয়েছে শিশু মুসা কে । সারাদিনের বাদাম বেচা কেনায় লাভ লোকসানের হিসাব মেলাতে পারলে ও সে নিজের জীবনের হিসাব মেলাতে পারেনা কিছুতেই ।
প্রতি বিকালে বলেশ্বর নদীর পারে ঘুরতে আসা শতশত নারী পুরুষের কাছে হেটে হেটে বাদাম বিক্রি করে সে। সকালে রায়েন্দা বাজার থেকে কাঁচা বাদাম কিনে আনার পর তার মা বাদাম ভেজে দেয়। পরে মা কে নিয়ে প্যাকেট করে বিকালে ছুটে যায় বলেশ্বরের তীরে। তার মায়াবী মুখ খানিতে যেন ক্লান্তির ছাপ।
আদর করে কাছে ডেকে জানতে চাইতেই বলে, মোর নাম মুসা। বাপের নাম আলমগীর সরদার। আগে সাগরে মাছ ধরতে। এহন অসুস্থ অইয়া বাড়ি থাহে। কাম কাইজ করতে পারেনা। পার্শ্ববর্তী জিলবুনিয়া গ্রামে এক কাঠা জমিতে ছোট একটা ঘরে তাদের বয়স।
বাদাম কেনা বেচার ফাঁকে ফাঁকে বললো, ওরা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই বাবু রায়েন্দা বাজারে একটি মুদি দোকানের কর্মচারি। ২ হাজার টাকা বেতন পায়। তাতে সংসার চলেনা। তাই কিছু দিন ধরে সে বাদাম বিক্রি করছে।
প্রতিদিন সকালে রায়েন্দা বাজার থেকে ২৫০ টাকায় দুই কেজি বাদাম এনে তার মাকে নিয়ে বাদামগুলো ভেজে ৫০ টি প্যাকেট করে। দুপুরের পরই বাদামের প্যাকেট নিয়ে ছুটে
আসে বলেশ্বরের পাড়ে। যে দিন সব বাদাম বিক্রি করতে পারে সে দিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ হয় বলে জানলো মুসা। নদীর পাড়ে যে দিন সব বাদাম বিক্রি না হয় সেদিন বাদাম নিয়ে রায়েন্দা বাজারে যেতে হয়। অনেক দিন বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায় বলে জানায় মুসা।
বয়স কত জানতে চাইলেই মুসা বললো, মোর বয়স কত জানিনা। লেখাপড়া জানো প্রশ্নের জবাবে মুচকি হাসে মুসা। একটা এনজিও স্কুলে শিশু ওয়ানে ভর্তি হইছিলাম। আব্বু অসুস্থ অইছে পর আর স্কুলে যাইনা।
বড় ভাইয়ের সামান্য আয় আর মুসার বাদাম বিক্রির টাকায় কোনমতে চলছে তাদের সংসার বলে জানায় সে ।
লেখা পড়া করতে চাও কিনা ? ভবিষ্যতে কি হতে চাও? এমন প্রশ্নের জবাবে কিছু না বলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সে। বাদাম বিক্রির লাভ ক্ষতি জানলেও নিজের জীবনের হিসাব বুঝতে পারেনা বলেশ্বর পাড়ের বাদাম বিক্রেতা শিশু মুসা।
এএপি


