
প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় নারীদের এশিয়ান অঞ্চলের অলিম্পিক বাছাই পর্বে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। যার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আর্থিক সংকটের বিষয়টি সামনে আনে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বের হতে শুরু করেছে থলের বেড়াল। ফলে ফেঁসে যাচ্ছে বাফুফে।
রোববার (৯ এপ্রিল) বাফুফের বিরুদ্ধে পূর্ব-পরিকল্পিত মিথ্যাচারের অভিযোগ আনেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এবার তার সুরে সুর মিলিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। নানান সময়ের আর্থিক গড়মিল ও টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে সর্বসম্মত হয়েছেন তারা।
বাফুফের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিয়ানমারে নারী ফুটবলারদের অলিম্পিকের বাছাই পর্বে অংশগ্রহণ করাতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া ৯২ লাখ টাকা। কারণ ইচ্ছেমতো খাত আর অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে সেখানে। বিশেষজ্ঞদের মতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার ভেতর সাচ্ছন্দ্যেই শেষ করা যেত এই টুর্নামেন্ট।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল নারী ফুটবলারদের অলিম্পিক বাছাইয়ে অংশগ্রহণ না করাতে পারার কারণ জানাতে যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল বাফুফে, সেখানে দাবি করা হয় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল এই প্রতিযোগিতার অংশ নিতে৷ তবে টাকা চেয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে যে চিঠি দিয়েছিল বাফুফে, সেখানে তাদের চাওয়া ছিল ৯২ লাখ টাকা।
বাফুফের ৯২ লাখ টাকা চেয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেন স্বাক্ষরিত সেই বাজেটে বিমান ভাড়া, আবাসন থেকে শুরু করে মোজা কেনা, পকেট মানিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তাছাড়াও ফুটবলারদের যাতায়ত, প্র্যাকটিস জার্সি, ম্যাচ জার্সি, টি শার্ট, গোলরক্ষক গ্লাভস, ৫০টি বল বাবদ বিভিন্ন ইস্যুতে বাফুফের টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা চোখে পড়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির। তাই এই বিষয়ে বাফুফের কাছে প্রকৃত ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।


