খুলনা আ’লীগ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মঞ্জুরুল ইমামকে ব্যক্তিগত কারণে হত্যা করা হয়নি। তাকে বিএনপি-জামায়াত আদর্শিক মতবিরোধের কারণে হত্যা করে। তিনি একজন ধার্মিক কিন্তু অসা¤প্রদায়িক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সকলের সাথে ক্ষীণ কন্ঠে আদবের সাথে কথা বলতেন। তাকে হত্যা করা শুধুমাত্রই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ ছিলো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোট স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে নির্মূল করতে জিঘাংসায় মেতে ছিলো। সেই জিঘাংসার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বনামধন্য মেধাবী রাজনীতিবিদ, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারপতিসহ বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে। সারা দেশের ধারাবাহিকতায় বিএনপি-জামায়াত খুলনায় সততার প্রতীক এড. মঞ্জুরুল ইমামকে হত্যা করে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আ’লীগ জনগণের দল হিসেবে তাদের উপর জনতার অর্পিত দায়িত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনা যথাযথভাবে পালন করেছে। নেতৃবৃন্দ দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এদেশে আর কখনও হত্যার রাজনীতি হবে না। সকলকে বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে সর্বদা প্রস্তুত থেকে শেখ হাসিনাকে ৫ম বারের মত প্রধানমন্ত্রী করতে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
গতকাল শুক্রবার বাদ মাগরিব দলীয় কার্যালয়ে মহানগর ও জেলা আ’লীগ আয়োজিত এড. মঞ্জুরুল ইমামের ২০তম শাহাদাৎবার্ষিকীর শোক সভায় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি।
মহানগর আ’লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা আ’লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুনুর রশীদ, নগর আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী।
নগর আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক মোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগের পরিচালনায় এ সময় বক্তৃতা করেন দলের সহ-সভাপতি এড. রবীন্দ্র নাথ মন্ডল, মলিক আবিদ হোসেন কবীর, নগর মহিলা আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এড. অলোকা নন্দা দাস, জেলা আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক হাফেজ মোঃ শামীম, সদর থানা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর ফকির মোঃ সাইফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. তারিক মাহমুদ তারা।
এ সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু, আ’লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, এড. রজব আলী সরদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বন্দ, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, মোঃ আশরাফুল ইসলাম, কামরুজ্জামান জামাল, শেখ মোঃ আনোয়ার হোসেন, এড. খন্দকার মজিবর রহমান, কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস আলম চাঁন ফারাজী, কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাকসুদ আলম খাজা, কামরুল ইসলাম বাবলু, শেখ ফারুক হাসান হিটলু, বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ, মোঃ খায়রুল আলম, নুর মোহাম্মদ শেখ, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, মাহবুবুল আলম বাবলু মোলা, সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, এ কে এম সানাউলাহ নান্নু, মনিরুল ইসলাম বাশার, কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান, আজগর বিশ্বাস তারা, এস এম আকিল উদ্দিন, শিউলি সারোয়ার, শেখ আবিদ উলাহ, মোঃ শফিউল আলম, চৌধুরী মিনহাজ উজ জামান সজল, কাজী এনায়েত আলী আলো, ফেরদৌস হোসেন লাবু, চ ম মুজিবর রহমান, আব্দুল হাই পলাশ, মোঃ নুর ইসলাম, শেখ ফারুক হোসেন, মোঃ আসলাম আলী, মোঃ জাকির হোসেন, কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার চালু, মোঃ ফয়েজুল ইসলাম টিটো, এড. শামীম মোশাররফ, মোঃ ইউসুফ আলী খান, মোঃ শাহজাহান জমাদ্দার, মীর মোঃ লিটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতালেব মিয়া, সফিকুর রহমান পলাশ, চৌধুরী রায়হান ফরিদ, শেখ আবু হানিফ, এম এ নাসিম, শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান সোহাগ, এম এম আসাদুজ্জামান রাসেল, অধ্যাপক এ বি এম আদেল মুকুল, এড. শামীম আহমেদ পলাশ, এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল, মনোয়ারা খাতুন শিউলি, মোঃ ইমরান হোসেন, শেখ নজিবুল ইসলাম নজিব, খান সাইফুল ইসলাম, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী ও রোজী ইসলাম নদী, ড. সাঈদুর রহমান, পারভিন ইলিয়াছ, নুরিনা রহমান বিউটি, নুর জাহান রুমি, নাসরিন আক্তার তন্দ্রা, হাবিবুর রহমান দুলাল, গোপাল সাহা, এ বি এম কামরুজ্জামান, মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ রুহুল আমিন খান, এড. আল আমিন উকিল, মলিক নওশের আলী, আব্দুল হালিম, আব্দুল মজিদ, সঞ্জয় কর্মকার, নজরুল ইসলাম, জেসমিন সুলতানা শম্পা, পারভিন হাসমত, লিভানা পারভিন, সৈয়দা হেনা বেগম, সাবিহা ইসলাম আঙ্গুর, রেজওয়ানা প্রধান, মেহজাবিন খান, কবীর পাঠান, শেখ শরীফ উলাহ, মোঃ ইকবল হোসেন, শেখ আরিফ উলাহ, শেখ হাসান বখতিয়ার বাকু, মোঃ রফিকুল ইসলাম খান মুকুল, তপন বালা, শেখ শরিফুল ইসলামসহ আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
শোক সভা শেষে মরহুম এড. মঞ্জুরুল ইমামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুর রহীম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
এর আগে সকাল ৯টায় দলীয় কার্যালয় হতে শোক র্যালি শুরু হয়ে শামছুর রহমান রোডের এড. মঞ্জুরুল ইমামের শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এ সময় সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা আ’লীগ, ২৩নং ওয়ার্ড আ’লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আ’লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ১৬নং ওয়ার্ড আ’লীগের উদ্যোগে সকাল ১০টায় বয়রায় মরহুমের কবর জিয়ারত করা হয়। জিয়ারত শেষে মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর ২৩নং ওয়ার্ড আ’লীগের উদ্যোগে শামছুর রহমান রোডস্থ মতি জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।


