
আরব সাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় উপকূলের দিকে তীব্র গতিতে এগোচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে এটি আঘাত হানতে পারে। ভারতের গুজরাট ও পাকিস্তানের করাচির উপকূলীয় এলাকা সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের শিকার হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের সংশ্লিষ্ট এলাকায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আর পাকিস্তান উপকূলীয় এলাকা থেকে এক লাখ লোককে সরিয়ে নিয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ জুন ) এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল ঘটবে। সেই সময় এই ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৯৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। আইএমডি জানিয়েছে, সন্ধ্যার দিকে সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছের ওপর দিয়ে যাবে। গুজরাটের জাখাউ বন্দরের ওপর দিয়ে ভূ-ভাগে আছড়ে পড়বে বিপর্যয়।
বিপর্যয়ের কারণে গুজরাট উপকূলে জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। বুধবার ভোরে আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে আইএমডি জানিয়েছে, ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি পোরবন্দরের ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এছাড়া জাখাউ বন্দর থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে ও দ্বারকার থেকে ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে বিপর্যয়।
ভারতের মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী বহু জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার জেরে সমুদ্র উত্তাল হয়েছে। মঙ্গলবার মুম্বাই বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের জেরে বাতিল হয়েছে বহু ট্রেন।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানেও। এজন্য দেশটির উদ্ধার কর্মীরা মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল থেকে এক লাখের বেশি লোককে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সালমান শাহ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উপকূলীয় এলাকা থেকে ৩৫ হাজারের বেশি লোককে ইতোমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও ৬৫ হাজার লোককে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য অভিযান চলছে।
দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের উপকূলীয় শহর এবং থাট্টা, বাদিন এবং সাজাওয়াল জেলার বাসিন্দাদের জন্য বাধ্যতামূলক স্থানান্তর আদেশ জারি করা হয়েছে। এই এলাকাগুলো ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পাকিস্তানের ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে এমন এলাকায় সেনা ও নৌবাহিনী নামানো হয়েছে। তারা চলমান নিরাপত্তা কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রশাসনকে সাহায্য করছে।
ঘূর্ণিঝড়টি ১৫ জুন বিকেলে তাহট্টা জেলার কেটি বান্দর উপকূল এবং ভারতের গুজরাট প্রদেশের মান্ডভির মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ৪ মিটার (প্রায় ১৩ ফুট) পর্যন্ত জোয়ার ও ঢেউ হতে পারে। এটি সম্ভবত সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো প্লাবিত করবে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের আবহাওয়া দফতর সতর্কতা জারি করে বলেছে, ঠাট্টা, সাজাওয়াল, বাদিন, থারপারকার এবং মিরপুর খাসের দক্ষিণ-পূর্ব জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের কারণে ৪০০ মিলিমিটার (১৫.৭ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত এবং প্রতি ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও করাচি ঘূর্ণিঝড় থেকে সরাসরি আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক বৃষ্টি এবং উচ্চ জোয়ারের কারণে বন্যার আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি নিচু সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতার কারণে করাচির বিখ্যাত সি ভিউ বিচের কাছাকাছি কয়েকটি আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদেরও সরে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও আনাদুলু


