বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাটির দাবি— ফারদিন হত্যায় চনপাড়া বস্তির একটি গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। রায়হান নামে চিহ্নিত এক মাদক কারবারি ওই ওই গ্রুপের নেতৃত্ব দেন।
গোয়েন্দাদের ভাষ্যমতে— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এখন পর্যন্ত যেসব ক্লু রয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, চনপাড়ায় হত্যা করা হয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনকে। ইতোমধ্যে রায়হান গ্যাংয়ের কয়েকজনকে নজরে রাখা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে মধ্যে বিষয়গুলো পরিস্কার হবে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ফারদিন হত্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। রহস্য উদঘাটনে অনেক অগ্রগতি আছে। অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনা পরিস্কার হবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে রায়হান গ্যাংয়ের পাশাপাশি অন্য কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রায়হানের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
মামলার তদন্তকারী এক কর্মকর্তা জানান, সময় লাগলেও ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছেন তারা। গত ৪ নভেম্বর রাতে চনপাড়ায় আসলে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। মাদক কারবারিরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স সন্দেহ করেও অনেকের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। চনপাড়াকেন্দ্রিক গ্যাংয়ের সদস্যরা নানা কৌশলে অনেককে ফাঁদেও ফেলেন। ওই রাতে চনপাড়ায় ফারদিনকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ফারদিন হত্যায় তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরার সংশ্লিষ্টতা এখনও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ফারদিনের বাবার করা মামলায় তার বান্ধবীকে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ফারদিনের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার দাবি করে বাবা কাজী নূর উদ্দিন বলেছেন, ‘মাদক দূরের কথা, আমার ছেলে জীবনে কখনও ধূমপান করেনি।’ গতকাল বুয়েটের শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন করেছেন ফারদিনের সহপাঠীরা। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নূর উদ্দিন এসব কথা বলেন।
এদিকে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ফারদিন হত্যা মামলায় বুশরাকে আসামি করায় উদ্বিগ্নে তার পরিবার। বুশরার চাচা মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রমাণ ছাড়া ছোট্ট একটি মেয়েকে আসামি করা হলো। শুধু সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জড়ানো হয়েছে। ফারদিন হত্যার প্রকৃত বিচার আমরাও চাই। বিনা অপরাধে কেউ যাতে ফেঁসে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।


