বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে আজ বৃহস্পতিবার। এ দিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, চলবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। দেশের ছোট-বড় ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দু’টি দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একসময়ের জোটমিত্র এই ২ দল বর্তমান নির্বাচনে মুখোমুখি অবস্থানে আছে। যে জয়ী হবে, সে-ই সরকার গঠন করবে। ভারতের সংবাদিমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই বিষয়টির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘তারেক রহমান বনাম জামায়াত : হাসিনার পতনের ১৮ মাস পর ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বিএনপির বড় প্রতিপক্ষ হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, একটি কট্টরপন্থী ইসলামী দল যেটি একসময় তাদের মিত্র ছিল। বাংলাদেশের পর্যবেক্ষকরা বিএনপির জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করলেও, তারা স্বীকার করেছেন যে জামায়াত এ নির্বাচনে তাদের সেরা ফলাফল অর্জন করবে।”
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে গতকাল বুধবার এবং আজ বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন করেছে ভারতের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন : হাসিনা নেই, বিএনপির প্রত্যাবর্তন এবং পুনরুজ্জিীবিত জামায়াত’।
আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই-এর প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে।’
ভারতের প্রথম সারির দৈনিক দ্য হিন্দু বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে লাইভ সংবাদ পরিবেশন করছে।
ব্রিটেনের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘জেন জি আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্ছেদ হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে।’
যুক্তরাজ্যের আরেক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রাধান্য দিয়ে শিরোনামে লিখেছে, “হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির যুগে পদার্পনের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের”। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেৃতত্বাধীন মহাজোটের ভূমিধস বিজয়ের পর ২০১০ সালে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। তারপর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থানে জয়ী হয়েছিল জেন-জি: নির্বাচনে প্রাধান্য বিস্তার করেছে পুরোনো রক্ষীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পতনে তরুণ প্রজন্ম সফল হলেও অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রধান নির্বাচনে প্রাধান্য বিস্তার করেছে বাংলাদেশের চার দশকেরও বেশি পুরোনো দল বিএনপি এবং ৬৭ বছরের পুরোনো দল জামায়াতে ইসলামি।”
পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন এবং শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘২০২৪ সালের জেন-জি বিপ্লবের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ।’
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের অন্যতম সমর্থক কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা চলমান নির্বাচন নিয়ে লাইভ সংবাদ পরিবেশন করছে। সংবাদের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালের বিক্ষোবে হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ।’


