ভারতীয় তারকাদের রহস্যজনক মৃত্যুর তালিকা বেড়েই চলছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকাসহ সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ছয়জনেরই ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি একজন অভিনেত্রীর প্ল্যাস্টিক সার্জারি করাতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
সুতারাং সব মিলিয়ে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে মোট সাত জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে ১১ মে (বুধবার) কণ্ঠশিল্পী সঙ্গীতা, ১৩ মে (শুক্রবার) অভিনেত্রী শাহানা, ১৫ মে (রোববার) পল্লবী, ১৬ মে (সোমবার) চেতনা রাজ, ১৭ মে (মঙ্গলবার) শেরিন সেলিন, ২৫ মে (বুধবার) বিদিশা ও ২৭ মে (শুক্রবার) তারই বান্ধবী মঞ্জুষা। যা নিয়ে ভারতের শোবিজ জগতে বেশ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে, অভিনেত্রীদের এই রহস্যজনক মৃত্যুর মিছিল শুরু হয় ১১ মে (বুধবার)। সেদিন নিখোঁজ হন হরিয়ানার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিব্যা ইন্দোরা ওরফে সঙ্গীতা। মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ের কথা বলে নিয়ে গিয়ে তাকে শ্বাসরোধে খুন করা হয়। পরবর্তীতে ভৈরো ভাবানি গ্রামের এক ফ্লাইওভারের পাশ থেকে গায়িকার অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করা।
এদিকে, নিজের ২০তম জন্মদিনের ঠিক পরদিনই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন কেরালার জনপ্রিয় মডেল ও দক্ষিণী সিনেমার অভিনেত্রী সাহানা। ১৩ মে (শুক্রবার) কেরালার কোঝিকোড় শহরে অভিনেত্রীর নিজ বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাহানার মায়ের অভিযোগে তার স্বামীকে আটক করে পুলিশ।
এছাড়া রহস্যজনক মৃত্যুর তালিকায় থাকা ভারতীয় বাংলা টেলিভিশনের অভিনেত্রী পল্লবী দে’র মৃত্যু নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে। প্রেমিক-সাগ্নিক চক্রবর্তীর সঙ্গে তিনি যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, গত ১৫ মে (রোববার) সকালে সেখান থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রেমিক সাগ্নিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পল্লবীর মৃত্যুর পরদিন ১৬ মে (সোমবার) ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান কন্নড় অভিনেত্রী চেতনা রাজ। প্ল্যাস্টিক সার্জারি করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারান তিনি। ওই ঘটনায় অভিনেত্রীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেন।
চেতনার মৃত্যু শোক কাটতে না কাটতেই চিরবিদায় নেন দক্ষিণী মডেল ও অভিনেত্রী শেরিন সেলিন ম্যাথিউর। ১৭ মে (মঙ্গলবার) নিজ ফ্ল্যাটেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় শেরিনের মরদেহ পাওয়া যায়।
ম্যাথিউরের পর এই তালিকায় যোগ হয় ২১ বছর বয়সি মডেল বিদিশা দে মজুমদার। ২৫ মে (বুধবার) নাগের বাজারের রামগড় কলোনির বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগেও দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। জানা যায় প্রেমিকের সঙ্গে মনমালিন্যের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেন।
সবশেষ এই তালিকায় নাম লেখান মডেল বিদিশা দে মজুমদারের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অভিনেত্রী মঞ্জুষা নিয়োগী। ২৭ মে (শুক্রবার) সকালে পাটুলির বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারনা করা হচ্ছে বিদিশার মৃত্যুর পর হতাশা আর অবসাদের জেরেই আত্মহত্যা করেছেন এই অভিনেত্রী।
পি এস/এন আই


