ভারতে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার নাঈমুর রহমান প্রান্তের লাশ দেশে পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) রাতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে লাশ দেশে আসার কথা ছিল। তবে অ্যাম্বুলেন্স বিকল হওয়াসহ নানা জটিলতায় কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
প্রান্তর সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহত তাইহান তাবাচ্ছির সোয়াদের বাবা ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহামন স্বপন বলেন, সোয়াদ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু পথে তাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে এখন তারা মুম্বাই অবস্থান করছে।
ভারতের হাসপাতালে সন্তানের লাশ, পাগলপ্রায় বাবা-মা
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা পাল্টে এখন সোয়াদ এককভাবে বিমানে দেশে চলে আসবে। আর গাড়িতে করে প্রান্তার লাশ বেনাপোল দিয়ে দেশে আসবে। সে হিসেবে দেশে আসতে আরও এক থেকে দু’দিন সময় লাগবে।
এদিকে প্রান্তর লাশ গ্রহণে ইতোমধ্যে তার স্বজনেরা বেনাপোল স্থলবন্দরে অপেক্ষায় আছেন।
এর আগে, ১৪ মার্চ রাতে ভারতের গোয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রান্ত। একই ঘটনায় আহত হন একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া আরও তিন বন্ধু। তারা হলেন, ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনের ছেলে তাইহান তাবাচ্ছির সোয়াদ (২৫), ফতুল্লা থানা গেট সংলগ্ন আমীর আলী সুপার মার্কেটের মালিক মৃত জহিরুল আলমের দুই ছেলে আলী আকরাম আকিব (২৬) ও আলী আরমান আদিব (২২)। ভারতের গোয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সোয়াদ নিহত প্রান্তর লাশ নিয়ে দেশে ফিরছেন। আর গুরুতর আদিবকে ওই দেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আকিবও আহত অবস্থায় অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের ফতুল্লা লালপুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা কামাল হোসেন ছেলের শোকে নাওয়া-খাওয়া ভুলে অসুস্থ প্রায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এদিকে, একমাত্র ছেলের মৃত্যুর কথা বিশ্বাসই করতে পারছেন না মা নাসিমা কামাল। তিন দিন ধরে পাগলের মতো আচরণ করছেন। কখনও বিলাপ করতে করতে ছেলেকে দেখতে চাইছেন, কখনও ছেলের কাছে ভারতে উড়ে যেতে চাইছেন। কখনও ওপরের দিকে তাকিয়ে ছেলেকে বলছেন, ‘বাবা তুমি কেমন আছো। মায়ের কাছে চলে আসো। তোমাকে ছেড়ে কীভাবে থাকবো। চলে এসো বাবা।’
পিএসএন/এমঅাই


