
চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে কাঁচামরিচের কেজি পাইকারি হিসেবে ১৫০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে এখন। যা ভারত থেকে কেনা হয়েছে মরিচের কেজি ৫৪ টাকা এবং টমেটো ৭০ টাকা দরে।
সে হিসেবে পাইকারিতে এই দুই নিত্যপণ্য বিক্রয় হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি দামে। যা খুচরা বাজারে আরও এক তৃতীয়াংশ বেশি। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের কেজি খুচরা বিক্রয় হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে এবং টমেটোর কেজি বিক্রয় হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।
নগরীর খাতুনগঞ্জ ও খুচরা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বিক্রেতার সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে দেশে কাঁচামরিচ ও টমেটোর চাষ হয় না। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। এতে গত কোরবানির বাজারের কয়েকদিন আগে থেকে এই কাঁচামরিচ ও টমেটোর দাম বেড়ে যায় লাগামহীনভাবে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাঁচামরিচ ও টমেটোর আমদানির অনুমতি দিলে কাঁচামরিচের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। এই কাঁচামরিচ বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি ২৫০ গ্রাম ৬০ টাকা, কেজি ২৪০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। তবে টমেটোর দাম এক তৃতীয়াংশ কমে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা দামে বিক্রয় হচ্ছে।
নগরীর বহদ্দারহাট কাচা বাজারের ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, কোরবানির আগের দিন কাঁচামরিচি এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রয় করেছি। এখন বিক্রয় হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে। যা খাতুনগঞ্জ থেকে পাইকারি হিসেবে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করছে।
তিনি বলেন, কাঁচামরিচ পঁচনশীল পণ্য। তাই পাইকারি কেনার সাথে খুচরা বিক্রয়ের অনেক তফাত। তবে পাইকারি বাজারে দাম পড়লে আমরাও কম দাম বিক্রয় করতে পারব। তিনি বলেন, টমেটো কম পঁচে। তাই পাইকারি ১৪০ টাকায় কেনা টমেটো ২০০ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে।
একই কথা বলেছেন নগরীর কাজীর দেউরি কাচা বাজারের সবজি বিক্রেতা শফিউল আলম, আবু নাছের, চকবাজারের সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম, মো. হোসেন, ফোরকান উদ্দিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী।
এদিকে নগরীর খাতুনগঞ্জের বিছমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক মো. আবু জাফর বলেন, বাজারে টমেটো ও কাঁচামরিচের সরবরাহ কম। ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামরিচ ও টমেটো বিক্রয় করছি আমরা। তাও চাহিদা অনুযায়ী এই দুই পণ্য মিলছে না। ফলে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দাম চড়া।
তিনি বলেন, খাতুনগঞ্জে বর্তমানে কাঁচামরিচের কেজি পাইকারি হিসেবে ১৫০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। যা ভারত থেকে কেনা হয়েছে মরিচের কেজি ৫৪ টাকা এবং টমেটো ৭০ টাকা দরে। আমদানি ও পাইকারি বিক্রয়ে এত পার্থক্য হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদিকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। অন্যদিকে আমদানি পরিবহন খরচ বেশি। সে হিসেবে খাতুনগঞ্জ পৌছাতে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত পড়ে। এরমধ্যে অনেক কাঁচামরিচ পঁচে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে ১৫০ টাকার কম বিক্রয় করা হলে লোকসান গুণতে হবে।
কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, পরিবহন খরচের দোহাই দিয়ে দ্বিগুণ লাভে পণ্য বিক্রয় করছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের এসব কথা যেন আষাঢের গল্প। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে ক্রেতা সাধারণকে জিম্মি করে পকেট কাটছে। এসব দেখার কেউ নেই।
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত ও ভোক্তা অধিকার মাঠে নামলে তখন এসব পণ্যের দাম কমে যায় কেন? প্রশাসর সরে গেলে আবার চড়া দামে তারা পণ্য বিক্রয় করে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমনটি হচ্ছে। জরিমানা তাদের জন্য কোন শাস্তি না। বরং জরিমানার টাকা তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে উসুল করে নেয়। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।


