শরণখোলায় ব্যাতিক্রমী দৃশ্য
আসাদুজ্জামান মিলন, শরণখোলা
একুশের প্রথম প্রহর। জনপ্রতিনিধি, আমলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা,পুলিশ,আনসার, ফায়ার সার্ভিস, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী,ছাত্র, যুবক নারীদের ভীড়। “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি” কন্ঠে প্রভাত ফেরী। শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। এ চিরচেনা দৃশ্যের পাশাপাশি উপজেলা সদর শরণখোলায় দেখা গেছে এবার ব্যাতিক্রমী চিত্র।
শরণখোলায় এই প্রথম চার টি ইউনিয়ন থেকে শতাধিক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এসেছিলো দল বেঁধে শহীদ মিনারে। তারা হৃদয়ের উষ্ণতা নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে।
কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধী, কেউ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, কেউ বাক প্রতিবন্ধী, আবার কেউ বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। কেউ এসেছে হুইল চেয়ারে, কেউ এসেছে ক্রাচে ভর করে, আবার কেউ বা সাদা ছড়ি হাতে এসেছে শহীদ মিনারে। তাদের হাতে ছিলো ফুলের মালা। শরণখোলায় এ দৃশ্য ছিল ব্যাতিক্রম।
সেন্টার ফর ডিজ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এ আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন জার্মানি নাগরিক মার্টিন, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ইকা ও এগনেছ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিডিডি ডেপুটি ডিরেক্টর ব্রজ গোপাল সাহা, প্রকল্প ব্যবস্থাপক এলিশ অরুণ মজুমদার, আনোয়ার জাহেদ, ফিল্ড কোর্ডিনেটর ডনি বিশ্বাস, থেরাপি সহকারী মোঃ শফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর সুমি আক্তার, সোনিয়া আক্তার, রিপা খানম ও ইমরান খান।
দল বেঁধে শহীদ মিনারে এসে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য দিয়ে উচ্ছ্বসিত শারীরিক প্রতিবন্ধী কালাম হাওলাদার বলেন, সারাজীবন দেখেছি মানুষকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে। কিন্তু আজ আমরা প্রতিবন্ধী ভাই বোনদের নিয়ে শহীদ মিনারে মালা দিতে পেরে আজ আমরা সত্যি আনন্দিত।
সিডিডি ডেপুটি ডিরেক্টর ব্রজ গোপাল সাহা জানান, আমরা প্রতিবন্ধীদের জীবন মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ভাষা শহীদদের প্রতি এই প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে তাদের মনোজাগতিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি।


