
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৩-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে আগামীকাল বুধবার (১৫ মার্চ)। চলবে পরদিনও। ভোটগ্রহণ শুরুর একদিন আগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিচারপতি মো. মনসুরুল হক চৌধুরী পদত্যাগ করায় আইনজীবীদের শীর্ষ এই সংগঠনের নির্বাচন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ভোটগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারে বিক্ষোভ করেছেন।
এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে আদালত অঙ্গন। ফলে আদালতপাড়ায় বাড়ানো হয় নিরাপত্তা।
সন্ধ্যায় সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষের সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল) প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে কয়েকশ আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বারে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটগ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক প্রার্থী আবদুন নূর দুলালের সমর্থনে সরকার সমর্থক আইনজীবীরা একই স্থানে অবস্থান নিয়ে পাল্টা স্লোগান দেন। এতে সুপ্রিম কোর্ট বারের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন আইনজীবীরা।
দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় আবারো পাল্টাপাল্টি নির্বাচন উপকমিটি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীরা জানান, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ব্যালট পেপার ছাপানো নিয়ে সম্পাদকের সঙ্গে মতবিরোধ, নির্বাচনে ভোট গণনায় ইলেকট্রিক মেশিন প্রবর্তন নিয়ে মতবিরোধ হওয়ায় তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি নির্বাচন উপকমিটি ঘোষণা এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ-স্লোগানের পর প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে ঐক্যমতের ভিত্তিতে নতুন করে সাত সদস্য বিশিষ্ট উপকমিটি গঠন করা হয়।
পুর্নগঠিত উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয় সাবেক বিচারপতি মুনসুরুল হক চৌধুরীকে। উপকমিটির সদস্যরা হলেন- মো. মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ ইলিয়াস ভূঁইয়া (কচি), এ এস এম মোক্তার কবির খান, মোহাম্মদ আশরাফ-উজ-জামান খান, মো. আসাদুজ্জামান মনির ও এস এম গোলাম মোস্তফা তারা।
আগামীকাল ও পরশু এই নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেল এবং বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল) প্যানেলের মধ্যে। এই নির্বাচনে অংশ নিতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেল থেকে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভেকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক আবদুন নূর দুলালকে মনোনীত করা হয়েছে।
অপরদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল) প্যানেল থেকে সভাপতি পদে সাবেক সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নির্বাচন করছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে দুই সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী আজম ও জেসমিন সুলতানা, কোষাধ্যক্ষ পদে এম. মাসুদ আলম চৌধুরী এবং দুই সহ সম্পাদক পদে এবিএম নূরে আলম (উজ্জ্বল) ও এম হারুন উর রশিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাকি সাত সদস্য পদে মো. সাফায়েত হোসেন সজীব, মহিউদ্দিন রুদ্র, শফিক রায়হান শাওন, সুভাষ চন্দ্র দাস, নাজমুল হোসেন স্বপন, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মনিরুজ্জামান রানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির মঞ্জু ও অ্যাডভোকেট সরকার তাহমিনা সন্ধ্যা, সহ-সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন ও অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল করিম, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান নজরুল, অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার, অ্যাডভোকেট ফজলে এলাহি অভি, ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ ও অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ নির্বাচন করছেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে একটি নোটিশ জারি করা হয়। কাযর্করী কমিটির সভাপতি পদে একটি, সহ-সভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহ-সম্পাদক পদে দুটি এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে সাতটি পদসহ সর্বমোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


