মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবশ্যই জিততে হবে – জিততে না পারলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে অভিশংসিত করবে। খবর- রয়টার্স
“আপনাদের (রিপাবলিকানদের) মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততে হবে কারণ, আমরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে না জিতি, তাহলে- মানে, ওরা আমাকে অভিশংসন করার একটা কারণ খুঁজে বের করবে,” ওয়াশিংটনে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততে না পারলে ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভাটা পড়তে পারে, এমনকি কংগ্রেসের তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। নির্বাচনের আগে তাই যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মিত্রদের সাথে যোগসাজশ করছেন ট্রাম্প। জীবনযাপনের খরচ নিয়ে ইতোমধ্যেই আমেরিকান ভোটাররা ক্ষুব্ধ। এমন অবস্থায় ট্রাম্প চাইছেন তার মিত্ররা নিজেদের বিরোধ ভুলে হাত মেলাবে এবং ট্রাম্পের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে আলোচনা নেই
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ট্রাম্পের ওপর সবার নজর এখন। এ ঘটনার পর নিজের দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা যেমন মূল্যস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সামলানোর দিকে নজর দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর। কিন্তু মঙ্গলবারের সম্মেলনে এসব ব্যাপারে ট্রাম্প প্রায় কিছুই বলেননি। বরং তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটদের তৈরি করা ওসব সমস্যা এখন তার ঘাড়ে এসে পড়েছে। এছাড়া ৬ জানুয়ারি, ২০২১ সালে তার সমর্থকরা যে হামলা চালিয়েছিল, এ ব্যাপারেও ট্রাম্প তেমন কিছু বলেননি।
চুরাশি মিনিট লম্বা বক্তব্যে অবান্তর অনেক কথা বলেন ট্রাম্প। যেমন তিনি বলেন, স্ত্রীর উপদেশে জনসম্মুখে নাচা বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া কিছু বানোয়াট আলাপও উঠে আসে এই বক্তব্যে। যেমন তিনি দাবি করেন, বিগত সাত মাসে ওয়াশিংটনে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। অথচ ২০২৫ সালে ১২৭ টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেখানে। এমনকি ৩১ ডিসেম্বর রাতেও একজন খুন হন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনের পুলিশ। ট্রাম্প দাবি করেন তিনি গলফ খেলার “সুযোগ পান না” অথচ গত রোববারেই তাকে খেলতে দেখা গেছে।
এ বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মিডটার্ম অর্থাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতবে, কিন্তু কিছু রিপাবলিকান সদস্য ঠিকঠাক পথে চলছেন না এমনটাও মন্তব্য করেন তিনি।
এই নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। ২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনেই আসন খুইয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা। এই নির্বাচন সামনে রেখে স্বাস্থ্যখাতে মনোযোগ দিতে রিপাবলিকান সদস্যদের আহ্বান জানান ট্রাম্প।
নিজের নির্বাহী ক্ষমতা আরও বাড়াতে চান ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন পর পর দুই বার অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য ইতোমধ্যেই ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজে।
বর্তমানে পাঁচটি ভোট বেশি নিয়ে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে রিপাবলিকানরা। এত সুক্ষ ব্যবধান নিয়ে নাখোশ ট্রাম্প এবং স্পিকার মাইক জনসন উভয়েই। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন খাতে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এতদিন রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে খরচ এবং অন্যান্য বিষয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতা অনেকটাই ট্রাম্পের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। গত মাসে কলোরাডো এবং ফ্লোরিডার অবকাঠামো নিয়ে কিছু প্রকল্প বাতিল করা নিয়ে একটি ভেটো দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ সপ্তাহে তার সেই ভেটো খারিজ করতে একটি ভোটাভুটি হতে পারে। তবে বেশি সংখ্যক রিপাবলিকান এই ভোটে ট্রাম্পের পক্ষ নেবে না বিপক্ষে যাবে, এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় না।



