
বিভাগ, জেলা ও ইউনিয়নের পর আজ শনিবার সারাদেশে মহানগরগুলোর থানায় থানায় পদযাত্রা করবে বিএনপি ও সমমনা জোটগুলো। সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপি ও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক আন্দোলনের অষ্টম কর্মসূচি এটি।
বিএনপির পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি থেকে আগামী ১১ মার্চ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।
শনিবার বেলা দুইটায় একযোগে এই কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তরে ২৬ থানায়, দক্ষিণে ২৪, নারায়ণগঞ্জে ৩, গাজীপুরে ৮, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ৪, খুলনায় ৫, বরিশালে ৩, রংপুরে ৬ ও সিলেট মহানগরের ৫ থানায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এছাড়া ৩ মহানগরে থানা না থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ড মিলে ৮ স্থানে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহে ৩৩ ওয়ার্ডে মিলে ৫ স্থানে, ফরিদপুরে ২৭ ওয়ার্ড মিলে এক স্থানে ও কুমিল্লা মহানগরের ২৭ ওয়ার্ড মিলে দুই স্থানে পদযাত্রা বের হবে।
গত ২৩ ডিসেম্বর গণমিছিলের মধ্য দিয়ে বিরোধীদলগুলো যুগপৎ কর্মসূচি শুরু করে। এর আগে ১০ ডিসেম্বর দেওয়া বিএনপির ১০ দফা দাবিতে দলগুলোর সমর্থনের কথা বিভিন্ন সমাবেশে বলেছেন জোট নেতারা। এর প্রেক্ষিতে গত আড়াই মাসে সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ ও বিভাগীয় সমাবেশ করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং সবশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি করে বিএনপিসহ তাদের সমমনা জোটগুলো। ধারাবাহিক আন্দোলনের অষ্টম কর্মসূচি আজকের পদযাত্রা।
‘গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, দমন-নিপীড়ন বন্ধ, খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং গণবিরোধী সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবিতে’ হবে পদযাত্রা। এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশব্যাপী সব মহানগরের অন্তর্গত থানায় পদযাত্রা সফল করতে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকায় কোন থানায় বিএনপির কোন নেতা থাকবেন
জানা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তরের পদযাত্রায় উত্তরা পূর্ব থানায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পল্লবীতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গুলশানে ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, কাফরুলে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, দক্ষিণখান থানায় জয়নুল আবদিন ফারুক নেতৃত্ব দেবেন।
দক্ষিণের যাত্রাবাড়ীতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শাহবাগে মির্জা আব্বাস, বংশালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শাহাজানপুরে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং চকবাজারে ড. ফরহাদ হালিম ডোনা নেতৃত্ব দেবেন।
এছাড়া মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অন্যান্য থানাতেও কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে প্রত্যেক থানায় দুপুর ২টা থেকে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বেলা ৩টা থেকে পদযাত্রা শুরু হবে।
অন্যান্য জোট, দল ও সংগঠনের কর্মসূচি যেসব এলাকায়
গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, ১২ দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আলাদাভাবে রাজধানী ঢাকায় পদযাত্রা বের করবে।
বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ সমাবেশ করে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে।
বেলা ৩টায় রাজধানীর এফডিসি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর আরও ৩টি স্থানে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম এলডিপির নেতৃত্বে পদযাত্রা বের হবে।
এছাড়া শনিবার ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে বেলা ১১টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংক সংলগ্ন রাস্তা থেকে শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা মোড় ঘুরে কালভার্ট রোড হয়ে আবার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।


