মার্কিন সৈন্যদের কাছ থেকে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জর্ডান-ইরাক সীমান্ত লাগোয়া একটি স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কয়েক দিন পর রোববার মার্কিন বাহিনীর কাছ থেকে ওই ঘাঁটি বুঝে নিয়েছে সিরিয়ার সৈন্যরা।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিরীয় আরব সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসাকা গ্রামাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।’’
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে মার্কিন সৈন্যরা আল-শাদ্দাদি শহরের ওই সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ওই এলাকায় অগ্রসর হওয়ার আগে শহরটি কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখানে কুর্দি বাহিনী আইএস সদস্যদের বন্দি করে রাখতো।
সিরীয় সরকারি বাহিনী ঘাঁটিটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাত্র তিন দিন আগে অর্থাৎ গত ১২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সৈন্যরা সিরিয়ার জর্ডান ও ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন আল-তানফ ঘাঁটি ত্যাগ করে বলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে।
আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের প্রধান সহযোগী ছিল কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএসের আঞ্চলিক পরাজয় নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এই কুর্দি যোদ্ধারা।
তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ঘটে। ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের আন্দোলনের মুখে বাশারের পতনের পর দামেস্কের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। কুর্দিদের সঙ্গে মার্কিন জোটের প্রয়োজনীয়তা এখন অনেকাংশে ফুরিয়ে এসেছে বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আইএসের আঞ্চলিক পরাজয় ঘটলেও গোষ্ঠীটি এখনও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি মাসে সিরিয়ায় আইএসের ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গত ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মাঝে পরিচালিত এসব বিমান হামলায় আইএসের ‘অবকাঠামো এবং অস্ত্র মজুত কেন্দ্রকে’ নিশানা করা হয়েছে।


