
নতুন দফায় ক্ষমতা নেওয়ার পর প্রথমবারের মত চীন সফরে গেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ। বুধবার থেকে তার এই তিন দিনের সফর এমন সময় হচ্ছে যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে চীনের সম্পর্কে বড়রকম ফাটল তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুর মিলিয়ে ইউরোপও বলছে- রাশিয়ার প্রতি চীনের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমর্থনের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধের সুরাহা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের কথা– রুশ জ্বালানি আমদানি বাড়িয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে চীন পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
চীন অবশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং নেটো সামরিক জোটকে দায়ী করে, এবং তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছে এই যুদ্ধে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।
চীনে ফ্রান্সের ব্যাপক অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ২০২২ সালে দুই দেশের বাণিজ্য প্রথমবারের মত ১০০ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। যে কারণে ৬০ জনেরও বেশি শীর্ষস্থানীয় ফরাসি কোম্পানির প্রতিনিধিরা মি. ম্যাক্রঁর সফরসঙ্গী হয়েছেন যাদের মধ্যে এয়ারবাস এবং জ্বালানি জায়ান্ট ইডিএফ এর প্রধান নির্বাহীরাও রয়েছেন।
কিন্তু বেইজিংয়ে যাওয়ার আগে এবং সেখানে পৌঁছে যে সব কথা ফরাসী প্রেসিডেন্টের মুখে শোনা গেছে তাতে পরিষ্কার যে তার সাথে চীনা নেতাদের কথাবার্তায় ব্যবসা ছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধ প্রধান একটি আলোচ্য বিষয় হবে।
বেইজিং রওয়ানা হওয়ার আগে ম্যাকরোঁ টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে। হোয়াইট হাউজ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বলা হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তারা কথা বলেছেন।
মজার ব্যাপার হলো ম্যাকরোঁর সাথে একই সময়ে বেইজিং গেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেইন। চীন সফরের কদিন আগে ব্রাসলসে যেসব কথা যে ভাষায় ভন ডের লেইন বলেছেন তা নিয়ে চীনা কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ব্রাসেলসে ৩০শে মার্চ এক অনুষ্ঠানে চীনা প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মিজ ভন ডের লেইন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার এমন “অবৈধ আগ্রাসন” সত্বেও প্রেসিডেন্ট শি মস্কোর সাথে “নো লিমিট (সীমাহীন)” সম্পর্ক বজায় রাখছেন।
তিনি বলেন, “পুতিনের সাথে চীন কেমন সম্পর্ক রাখবে, তার ওপর নির্ভর করবে ইইউ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।”
তার দুদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতির প্রধান জোসেফ বোরেলও বলেন “আমরা চীনের কাছে স্পষ্ট করেছি (ইউক্রেনে) রাশিয়ার নৃশংসতা এবং যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তাদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে তাদের সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক।


