যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী মো. আনিসুর রহমান হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দাবিতে বুধবার শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দরনগরী নওয়াপাড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই হরতাল একটানা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। হরতাল শুরুর পর থেকেই নওয়াপাড়া শিল্প ও বাণিজ্যিক শহরের চিত্র পাল্টে গেছে। সকাল থেকে শহরের সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান এই নদীবন্দরে পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করছেন বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকেরা। হরতাল সমর্থকেরা যশোর-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করেন। ফলে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে যানবাহনগুলো বিকল্প পথে যাতায়াত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
৬ মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের’ মালিক এবং ‘আনিস প্লাজার’ স্বত্বাধিকারী আনিছুর রহমান। নওয়াপাড়ার পীর বাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহামুদ ‘আনিস প্লাজায়’একটি দোকান ঘর ভাড়া নিতে ব্যর্থ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ।
হরতাল আহ্বানকারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা শাহ মাহামুদসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং নৌবন্দর এলাকায় দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গণি সরদার বলেন, ‘অব্যাহতভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবসায়ীরা বিপর্যস্ত। সর্বশেষ সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হত্যার শিকার হয়েছেন। ফলে এ নৈরাজ্য বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। নইলে ব্যবসায়ীরা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’


