ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর বাঁধায় আখাউড়া স্থলবন্দরের সড়ক-ভবন ও শৌচাগার সংস্কার কাজ বন্ধের পর এবার যাত্রী পারাপারে হস্তক্ষেপ করেছে বিএসএফ।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে যাত্রী পারাপার বন্ধের ২০ মিনিট পর বিজিবি’র প্রতিবাদের মুখে তা স্বাভাবিক হয়। কিছুক্ষণ পারাপার বন্ধ থাকায় স্থলবন্দরে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। একই সঙ্গে বন্দরে প্রবেশের সড়ক, যাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা শৌচাগার সংস্কার বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থলবন্দর ব্যবহারকারীরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেরামত কাজটি সীমান্তের প্রায় শূন্যরেখায় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে অনুমতি নিতে হয়। তবে রাস্তা ও শৌচাগার অনেক আগে থেকেই ছিলো এবং রাস্তা ও শৌচাগার ভেঙ্গে যাওয়ার গণপূর্ত বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। ইমিগ্রেশন ভবন এলাকায় নতুন করে কোনো স্থায়ী স্থাপনা করা হচ্ছে না।
গত ১১ তারিখ থেকে এই সংস্কার কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিএসএফ আপত্তি জানালে বিজিবি বিষয়টি অবহিত করে। এরপর কাজ বন্ধ রাখা হয়। বুধবার দুপুরে হঠাৎ বিএসএফ সীমান্তের শূণ্য রেখায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ইমিগ্রেশনের নতুন ভবন নির্মাণেও আপত্তি দেয় বিএসএফ। তাদের আপত্তির মুখে নকশা পরিবর্তন করা হয়। সেই ভবন নির্মাণ কাজ এখনো নানা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপরিদর্শক স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, ‘সংস্কার কাজে বিএসএফ আপত্তি দিয়েছে বলে বিজিবি এসে জানায়। এরপর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিজিবি’র পক্ষ থেকে সেখানে লাল নিশান দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বুধবার কয়েক মিনিটের জন্য যাত্রী পারাপারে সমস্যা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়ের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আশিক হাসান উল্লাহ সাংবাদিকদেরকে জানান, বিএসএফ হুট করে যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি আমরা তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়। তিনি জানান, সীমান্তের শুন্য রেখায় ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে অনুমতি নিতে হয়।


