গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অগ্রগতি আনতে মার্কিন-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক ও সৈনিক এডান আলেকজান্ডারকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। বিবিসি ও আলজাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “যুদ্ধবিরতি আলোচনায় গতি ফেরানো এবং গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে এডান আলেকজান্ডারকে মুক্তি দেওয়া হবে।” তবে কবে নাগাদ এ মুক্তি কার্যকর হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
২১ বছর বয়সী আলেকজান্ডার তেল আবিবে জন্মগ্রহণ করলেও বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। তিনি গাজার সীমান্তে মোতায়েন ইসরায়েলের একটি অভিজাত পদাতিক ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় হামাস তাকে বন্দি করে।
হামাসের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন গাজায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। গত ৭০ দিন ধরে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানিসহ সবধরনের ত্রাণসাহায্য প্রবেশ বন্ধ রেখেছে ইসরায়েল।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ে ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি কাতারে হামাস নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তবে গত ৬ মে হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়ে দেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আর যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী নয় সংগঠনটি। একই সঙ্গে তিনি গাজায় ‘ক্ষুধার যুদ্ধ’ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েল যুদ্ধের লক্ষ্যকে পরিষ্কার করেছে—জিম্মি উদ্ধার নয়, বরং হামাসকে সামরিকভাবে পরাজিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য তেল আবিব ইতিমধ্যে হাজার হাজার সংরক্ষিত সেনা তলব করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেই নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় জরুরি বৈঠক করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে এডান আলেকজান্ডারের সম্ভাব্য মুক্তি যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও, তা স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করবে কিনা—সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


