চট্টগ্রাম বন্দর অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার রফতানি পণ্যসহ একটি জাহাজ। ভিয়েতনামের একটি কোম্পানির মালিকানাধীন জাহাজটির নাম এমভি হাইয়ান সিটি। এতে বাংলাদেশের রফতানি পণ্য ছিল। বন্দরের মূল জেটির বাইরে প্রথমবারের মতো দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ থেকে নামানো হয় কনটেইনার।
এর আগে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়ায় তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ভিয়েতনামের পতাকাবাহী ওই কনটেইনার জাহাজের। এ সময় একটি খালি কনটেইনার জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে যায়। জাহাজটির পেছনের অংশ ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকে প্রায় সাত ডিগ্রি কাত হয়ে পড়ে। দুমড়েমুচড়ে যায় জাহাজটির এক পাশে থাকা কনটেইনার।
ঝড়ে বা প্রবল ঢেউয়ে যেকোনো সময় ডুবে যাওয়ার শঙ্কা ছিল জাহাজটির। বুধবার একে ছয়টি বিশেষ জলযানের সহযোগিতায় বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার করে বেসরকারি কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটিতে নিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পর জাহাজটি চলাচলের সক্ষমতা অর্জন না করায় এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বন্দর ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা জাহাজটিকে উদ্ধার করতে চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাহাজের মালিক প্রতিনিধি, স্থানীয় এজেন্ট, উদ্ধারকারী সংস্থা, জাহাজের বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সব সংস্থার প্রতিনিধিকে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। এরপরই জাহাজটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় জেটিতে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাজটি কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে ভিড়ানোর পর কনটেইনার খালাসের নিমিত্তে কাস্টমস ল্যান্ডিং পারমিট গ্রহণ করা হয়। কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটির ফোরশোরে ১০.৭ মিটার ড্রাফট উপযোগী জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ বিভাগের দক্ষ পাইলটিং, স্থানীয় নৌ প্রযুক্তি ও প্রান্তিক বেঙ্গল সার্ভিসের সহযোগিতায় জাহাজটিকে কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে আনা হয়। উদ্ধারকাজে বন্দরের টাগবোট, দুটি বিশেষায়িত পলিউশন কন্ট্রোল জাহাজ ছাড়াও প্রান্তিক বেঙ্গল সেলভেজ অ্যান্ড ডাইভিং সার্ভিসের টাগবোট ব্যবহার করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে ৮০০ কোটি টাকার মূল্যের রফতানি পণ্য যেমন রক্ষা পেয়েছে তেমনি জাহাজ ডুবলে নৌ চলাচলে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতো, তা থেকে রক্ষা পেয়েছে বন্দর।
পিএসএন/এমঅাই


