রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী জারুলছড়ি এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এই গোলাগুলি। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে এই বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশ হতাহতের কোনো খবর নিশ্চিত করতে পারেনি।
ঘটনার পর যৌথ বাহিনীর দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা বন্দুকযুদ্ধের আলামত পেলেও হতাহত কাউকে উদ্ধার করতে পারেনি।
স্থানীয়রা বলছে, পাহাড়ি সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় জেএসএসের ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ঘোরাফেরা করছিল। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপিডিএফের একটি দল তাদের ওপর গুলি করে। এ সময় জেএসএস সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি হয়।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গেছে। তবে হতাহত কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা যৌথ বাহিনীকে জানিয়েছে, সকালে তারা গোলাগুলির শব্দ শুনেছে।
ইউপিডিএফ মূল দলের রাঙামাটি সমন্বয়ক সচল চাকমা জানান, ‘জেএসএসের সশস্ত্র লোকজন আমাদের নিরস্ত্র কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।’
জেএসএস রাঙামাটি জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নগেন্দ্র চাকমা বলেন, ‘আমাদের সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। আমাদের দলের কোনো সশস্ত্র শাখা নেই। ইউপিডিএফ নিজেরা এই গোলাগুলি করতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাঙামাটির লংগদু উপজেলার লংগদু সদর ইউনিয়নের ছোট কাট্টলী মোন এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউপিডিএফ তাদের একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার কথা স্বীকার করে। নিহত ব্যক্তির নাম শ্যামল চাকমা ওরফে ভীম চাকমা (৩৪)। শ্যামল চাকমা নানিয়ারচর উপজেলার নানিয়ারচর ইউনিয়নের গবছড়ি গ্রামের ফুলেশ্বর চাকমার ছেলে।


