
ক্যাসিনোকাণ্ডে বন্ধ হয়ে যাওয়া মতিঝিলের ক্লাবগুলোর ব্যাপারে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসছে। দীর্ঘসময় পর এসব ক্লাব খোলা হলেও থাকবে নিয়মের বেড়াজাল। নতুন নিয়মে সকাল থেকে শুরু হয়ে ক্লাবগুলো চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত। এছাড়াও আগের পরিচালনা পরিষদের কোনো নেতা ক্লাবগুলোর কমিটিতে থাকতে পারবে না- এই মর্মেও শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।
বন্ধ পরে থাকা ক্লাবগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়াও ক্রীড়া পরিষদ ও সাবেক খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
Clubসম্প্রতি ক্লাবগুলো খোলার ব্যাপারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ক্লাব সংশ্লিষ্টদের একটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। আগামীকাল বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ক্রীড়া পরিষদ ভবনে ওই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি বাতিল হয়েছে। যদিও খুব শিগগিরই তারিখ নির্ধারণ করে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে দাবি ক্লাব সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, বৈঠকে ক্লাবগুলো খোলা ছাড়াও সেগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, নিয়ম-নীতি কি হবে এবং কারা সেগুলো পরিচালনা করবেন- এসব ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা হবে। পরবর্তীকালে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি সুপারিশ পেশ করা হবে। সবশেষ কীভাবে ক্লাবগুলো খোলা হবে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
ক্লাব সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি- সাড়ে ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, আরামবাগ ক্লাব ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব পুনরায় খোলা হলেও নানা নিয়ম-কানুনের আওতায় এগুলো পরিচালিত হবে। যেখানে কোনোপ্রকার জুয়া চালবে না। এ লক্ষ্যে নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে একটি নীতিমালাও তৈরি হচ্ছে। তবে এর আগে যারা ক্লাবগুলো পরিচালনা করতে ইচ্ছুক তাদের কাছ থেকে লিখিত স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক এক সংগঠক বলেন, ক্লাবগুলো খোলা হলে যারা সদস্য হবেন এবং পরিচালনা করবেন- তাদের প্রত্যেকের একটি পরিচয় যেন থাকে তাও খসড়া নীতিমালায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাবে আর কোনো ধরনের অনৈতিক খেলাধুলার আয়োজন হবে না।
ক্লাবটির সাবেক এই সংগঠক আরও জানান, ‘হাউজি’ ভিন্ন নামে চালু হলেও কোনোভাবেই এখানে টাকার সম্পর্ক থাকবে না। প্রতিটি খেলোয়াড়কে ফ্রিজ, টিভি, রাইস কুকার, ওভেন ও মুঠোফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। মূলত হাউজি চালানো হবে ক্লাবগুলো জমজমাট রাখতে। তবে ‘ওয়ানটেন’ (কার্ডে জুয়া) আর চলবে না। এসব নিয়ম মানলেই ক্লাবগুলো খোলা হবে বলে শর্ত রাখা হয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি- চালুর পর প্রতিটি ক্লাবে নজরদারি রাখবে পুলিশ। তবে ক্লাবগুলো কীভাবে চলছে, নিয়ম-নীতি মানছে কি-না তার দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় কাউন্সিলর।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন মতিঝিলের ক্লাবগুলো বন্ধ থাকায় এর অধিকাংশ আসবাবপত্র ছাড়াও জানালা, দরজা, এসিসহ মূল্যবান ট্রফি ও মেডেল চুরি হয়ে গেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িও তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না ক্লাবগুলোর সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা। এমতাবস্থায় ভবিষ্যতে যাতে এমন কিছু না ঘটে সে জন্য প্রতিটি ক্লাবকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার চিন্তাও করা হচ্ছে।
ক্লাবগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাবেক এক সংগঠক বলেন, ব্যক্তি দোষ করতে পারে, কিন্তু কোনো ক্লাব তো দোষী নয়। তাই আমরা চাই দ্রুত ক্লাবগুলো খুলে দেওয়া হোক। আর এবার খুললে যাতে আর কোনোদিন কেউ ক্যাসিনোর মতো জুয়া চালানোর সাহস না পায়, তার জন্য আমরা কঠিন নিয়ম-নীতিমালা করতে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে কাজও চলছে। সাবেক এক ফুটবলার বিষয়টির তদারকি করছেন। আর তাকে সহায়তার জন্য বিভিন্ন ক্লাবের বর্তমান ও সাবেকরাও আছেন।
একই কথা জানিয়েছেন ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন তিনি বলেন, আমরা চাই ক্লাবগুলো খুলুক। তবে এইসব ক্লাবে আর এমন কাউকে বসানো হবে না, যাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ আছে। তবে নতুন কিছু নিয়ম হতেই পারে।
সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আব্দুল গাফফার বলেন, বন্ধ ক্লাবগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ১৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের বসার কথা ছিল। কিন্তু সেটি পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে খুব শিগগির তারিখ ঠিক করা হবে। এর আগে প্রতিটি ক্লাব খোলা হলে কীভাবে চলবে, তার একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।


