ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার চালানো একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিসায় কমপক্ষে দু’জন নিহত এবং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়ার ভেতরে দু’টি বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা সংঘটিত হয়, যাতে অন্তত তিন ব্যক্তি নিহত হয়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানি বলছে, এই হামলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কোনো কোনো জায়গায় বিদ্যুৎ নেই। ওডেসায় পানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে।
কিয়েভে বিমান হামলার সাইরেন বাজলে বহু লোক পাতাল রেলের স্টেশনে আশ্রয় নেন
জাপোরিসার কর্মকর্তারা বলছেন, আবাসিক এলাকার ওপর এই হামলায় অন্তত দু’ব্যক্তি মারা গেছেন।
রাজধানী কিয়েভে সম্ভাব্য বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠলে বহু লোক পাতাল রেলের স্টেশনে আশ্রয় নেয়।
রাশিয়ার কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, নিহত তিন
এর আগে রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর দু’টি বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণ হয় – যাতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে।
এই দুটো জায়গাই ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে কয়েক শ’ কিলোমিটার দূরে।
কীভাবে এ বিস্ফোরণ হলো তার বিস্তারিত খুব বেশি জানা যায়নি, তবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে রায়াজান শহরের কাছের একটি এয়ারফিল্ডে একটি তেলের ট্যাঙ্কার বিস্ফোরিত হলে দু’জন থেকে তিনজন ব্যক্তি নিহত এবং ছয়জন আহত হয় বলে সরকারি গণমাধ্যম বলছে।
অন্য আরেকটি বিস্ফোরণে দু’জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিস্ফোরণটি হয় সারাতোভ অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে – যেখানে রাশিয়ার দীর্ঘ পাল্লার বোমারু বিমান রাখা হয়। একটি রুশ খবরে বলা হয়েছে ওই অঞ্চলের এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে একটি ড্রোন এসে পড়ে এবং তাতে দু’টি টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্রাইমিয়ার কার্চ ব্রিজ পরিদর্শনে পুতিন
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এসব ঘটনার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে রুশ-অধিকৃত ক্রিমিয়ার ভেতরে কিছু ঘাঁটিতে ইউক্রেন আক্রমণ চালিয়েছে।
অন্যদিকে রুশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন আজ দখলকৃত উপদ্বীপ ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার মূল ভূখন্ডের সংযোগকারী সেতুটি ঘুরে দেখেছেন।
গত অক্টোবরে এক বিস্ফোরণে সেতুটির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে টেলিভিশন ফুটেজে দেখানো হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট কার্চ ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র : বিবিসি


