
তীব্র গরমে ও তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ ও স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে বয়ে চলছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। সেই তীব্র তাপপ্রবাহ এখন প্রকট আকার ধারণ করে রূপ নিয়েছে অতি তাপপ্রবাহে। অতীব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জোর প্রচারণা।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৩ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ জেলার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গতকাল এ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তীব্র তাপদাহে এ জেলার খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। তীব্র গরম ও রোদের তাপের কারণে শ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যান-রিকশা চালকরা কাজ করতে না পেরে অলস সময়ও পার করছেন। একটু প্রশান্তির খোঁজে গাছের ছায়া ও ঠাণ্ডা পরিবেশে স্বস্তি খুঁজছে স্বল্প আয়ের মানুষরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তা ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। আবার অনেকে জরুরি প্রয়োজন ও জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বের হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এসময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৪ শতাংশ। দুপুর ১২ টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এসময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ৩৪ শতাংশ। তাপমাত্রা আরও বেড়ে বিকাল ৩ টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এসময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ১৪ শতাংশ। এটি এ জেলার এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং গত ৯ বছরের রেকর্ডকৃত তাপমাত্রার সর্বোচ্চ। এধারা আরও কিছুদিন অব্যহত থাকতে পারে।


