বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় নরওয়ে সরকার ১০ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদান দিয়েছে। দেশটির এই অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নরওয়ের এই অনুদানকে স্বাগত জানায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অর্থায়ন ২০২৫-২৬ সালে ইউএনএইচসিআরের বৈশ্বিক বাজেটে সহায়তার অংশ হিসেবে এসেছে। সংস্থাটির জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ও মানবিক চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় সেবা কমাতে হয়েছে। এর ফলে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সংকটের নবম বছরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং আশা টিকিয়ে রাখতে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা দরকার। নরওয়ের এই অনুদান শরণার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও মজবুত করবে এবং স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে ও নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আগপর্যন্ত তাদের মনোবল অটুট রাখবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসেন বলেন, নরওয়ে ও ইউএনএইচসিআর শরণার্থী সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। যা অধিকারভিত্তিক, নীতিগত, বহুপাক্ষিক এবং ভবিষ্যৎমুখী। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো এমন এক নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করা, যে অধিকারের ওপর জোর দেয়, মর্যাদা রক্ষায় কাজ করে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, মানবিক নীতি মেনে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রমে সহায়তা করতে পেরে নরওয়ে গর্বিত।
সেইফ প্লাস টু’র মতো যৌথ কর্মসূচিতেও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে নরওয়ে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থীদের রান্নার জন্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যা লাকড়ির ওপর নির্ভরতা কমায়। এর ফলে ক্যাম্পের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর চাপ কম পড়ে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য।
বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের ৭১ শতাংশই বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বাস্তুচ্যুতির বোঝা কমাতে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও নিয়মিত সহায়তা খুবই দরকারি। মানবিক তহবিল সংকটের কারণে এই সহায়তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউএনএইচসিআর ও তার অংশীদাররা রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ সালের হালনাগাদ করা যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান, জেআরপি) চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নরওয়ে ইউএনএইচসিআর ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য উদারভাবে অর্থায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ২০১৭ সাল থেকে নরওয়ে মূল সহায়তা হিসেবে ৫ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে। মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে নিরাপদে শরণার্থী আশ্রয়ে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ের এই উদার সহায়তা তারই এক অনন্য উদাহরণ।


