দুবাই থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে একটি ফ্লাইট। বিমানটির দুই যাত্রীর কাছে স্বর্ণ আছে বলে আগেই তথ্য ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। ইকে-৫৮৪ নম্বর ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পরপরই নড়েচড়ে বসে গোয়েন্দারা। যাত্রীদের বিমানে থাকা অবস্থাতেই তল্লাশি শুরু করেন। ধরা পড়ার শঙ্কায় লাইফ জ্যাকেটে মলত্যাগ করে তা ঢেকে রাখেন দুই যাত্রী সুমন ও আমিন আর রশিদ।
গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের নেওয়া হয় কাস্টমস এলাকায়। এরপর তল্লাশিকালে ব্যাগ থেকে মেলে কিছু স্বর্ণ। কিন্তু আরও স্বর্ণ থাকার তথ্য থাকায় সন্দেহ কাটছিল না গোয়েন্দাদের। অবশেষে যে আসনে বসে তারা ঢাকায় আসনে ওই আসনে লাইফ জ্যাকেট থেকে ছড়িয়ে পড়া গন্ধের উৎস খুঁজে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় তিন কেজি ওজনের স্বর্ণ। যেগুলো পায়ুপথে এনেছিল তারা। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে মলত্যাগ করে সেখানে ঢেকে রেখে আসেন দুই যাত্রী।
আটক দুজনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলায়। তাদের একজন ছোট থেকেই দুবাইয়ে বড় হয়েছেন। আরেকজন নিয়মিত যাতায়াত করেন।
এপিবিএন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও শুল্ক গোয়েন্দার যৌথ অভিযানে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের স্বর্ণসহ আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এপিবিএন এর অতিরিক্ত পরিচালক জিয়াউল হক পলাশ। তিনি জানান, দুই যাত্রী দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল তারা পায়ুপথে বাংলাদেশে স্বর্ণ আনছেন। এরপর শুরু হয় যৌথ অভিযান। তাদের ইমিগ্রেশন করে কাস্টমস এরিয়াতে নিয়ে আসা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুজনের ব্যাগ থেকে ৪টি স্বর্ণবার (৪৬৪ গ্রাম) ও ১৯৬ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও অন্য স্বর্ণ পাওয়া যায়।
কিন্তু গোয়েন্দাদের সন্দেহ কাটে না। পরে রাত সাড়ে বারোটার দিকে দুবাই থেকে আসার ফ্লাইটটির সিট তল্লাশি করা হয়। তখন দুই সিটের নিচে রামেজিং করে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ১০টি ছেটি ছোট প্যাকেট পাওয়া যায়। পরে ১০টি প্যাকেট খুলে স্বর্ণসদৃশ পেস্ট ২ কেজি ৩৪০ গ্রাম উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা স্বর্ণগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
জিয়াউল হক পলাশ আরও বলেন, পায়ুপথে দুই যাত্রীর স্বর্ণের বার আনার খবর আগেই জানতে পেরে বিষয়টি কাস্টমসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে তারা বিমানযাত্রীদের নামতে নিষেধ করেন। সেই সময় দুজন যাত্রী বিমানের সিটে বসেই মলত্যাগ করেন। পরে সেগুলো লাইফ জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে রেখে নেমে পড়েন।
আটক দুই যাত্রী
তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে কিছু স্বর্ণ পাওয়া গেলেও তা আগাম পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পর্যাপ্ত ছিল না। এরপর সেই ফ্লাইটের যে সিটে তারা এসেছিলেন সেগুলো থেকে পায়খানার গন্ধ বের হলে বিমানের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি আমাদের জানায়। পরে গোয়েন্দারা গিয়ে বিমানের দুটি লাইফ জ্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন, যেগুলো মলত্যাগ করে ঢেকে রাখা হয়েছিল। এরপর জ্যাকেট দুটির পায়খানার সঙ্গে স্বর্ণবারগুলো পাওয়া যায়।
gold-2জব্দ করা স্বর্ণগুলো সৃজা জুয়েলার্স, এল কে প্লাজা, ৯০ দক্ষিণখান বাজার, ঢাকা-১২৩০ এর প্রতিনিধির মাধ্যমে কষ্টি পাথরের সাহায্যে প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় জব্দ করা স্বর্ণসদৃশ পেস্টকে স্বর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যয়ন প্রদান করেছেন, যা পরে আইনানুগ নিষ্পত্তির জন্য সাময়িকভাবে জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে কাস্টমস আইনে মামলা করা হয়েছে।


