দেশীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি ল্যাপটপসহ একগুচ্ছ ইলেক্ট্রেনিক পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সভায় এ নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছে তারা।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর জেনেভায় ডব্লিউটিওর মার্কেট অ্যাকসেস বিষয়ক কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে ভারতের ল্যাপটপ আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে কয়েকটি দেশ।
জেনেভাভিত্তিক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে ভারতে মার্কিন পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারক এবং ডাউনস্ট্রিম ব্যবহারকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
এর আগে, ল্যাপটপ, ব্যক্তিগত কম্পিউটার (ট্যাবলেট কম্পিউটারসহ), মাইক্রো কম্পিউটার, বড় বা মেইনফ্রেম কম্পিউটার এবং নির্দিষ্ট ডেটা প্রসেসিং মেশিন হিসেবে আইটি হার্ডওয়্যার পণ্যগুলো আমদানিতে গত ৩ অগাস্ট বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত।
চীনের মতো দেশগুলো থেকে এসব পণ্য আমদানি কমিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত। তবে ভারতীয় বাণিজ্য সচিব সুনীল বার্থওয়াল গত সপ্তাহে বলেছেন, ভারত আমদানিতে লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা আরোপ করবে না। কেবল পণ্যগুলোর অন্তর্মুখী চালান পর্যবেক্ষণ করবে।
জেনেভা-ভিত্তিক কর্মকর্তা আরও বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া জোর দিয়ে বলেছে, ভারতের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ ডব্লিউটিওর নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং ফলস্বরূপ অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য বাধা তৈরি করতে পারে।
সিউল ভারতকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের সময়রেখাসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছে।
ভারত প্রতি বছর ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের কম্পিউটার পণ্য আমদানি করে থাকে। দেশটি ২০২২-২৩ সালে ৫৩৩ কোটি ডলারের ল্যাপটপসহ ব্যক্তিগত কম্পিউটার আমদানি করেছিল। ২০২১-২২ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৩৭ কোটি ডলার।


